নয়াদিল্লি:  দেশজুড়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যে ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ লক্ষ পেরিয়ে গিয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যাও ৩১ হাজারের গণ্ডি পেরিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৭৫৭ জনের। ফলে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১,৩৫৮। একদিনে করোনায় সংক্রমিত ৪৮ হাজার ৯১৬। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও সুস্থতার রেকর্ড স্বস্তি দিচ্ছে।

গত ২৪ ঘন্টায় ৩২ হাজার ২২৩ জন মানুষ গোটা দেশে সুস্থ হয়েছেন। যেভাবে করোনায় সুস্থ হচ্ছেন তাতে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা। শুধু তাই নয়, দিল্লি, মুম্বই, অহমেদাবাদে করোনাতে সংক্রমণের গ্রাফ ক্রমশ নামছে। এমনটাই স্বস্তির খবর শোনাচ্ছেন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস)-এর ডিরেক্টর তথা ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সের সদস্য ডঃ রণদীপ গুলেরিয়া।

শুধু তাই নয়, করোনায় মৃতের সংখ্যাও বিশ্বের একাধিক দেশের থেকে অনেকটাই কম বলে দাবি তাঁর। তবে এই পরিস্থিতিতে কোনও ভাবে ঢিলেঢালা দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সের সদস্য ডঃ রণদীপ গুলেরিয়ার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভারতে করোনা মহামারীর সংক্রমণ ও প্রসার, মৃত্যুর হার, বর্ষায় ভাইরাসের প্রকৃতি কেমন হবে তা নিয়ে সার্বিকভাবে কথা বলেন ডঃ গুলেরিয়া।

তাঁর মতে দেশের ভিন্ন ভিন্ন অংশে আলাদা আলাদা সময়ে সংক্রমণের হার শীর্ষে পৌঁছবে। তিনি বলেন, দিল্লিতে আপাতত সংক্রমণের হার কমছে। দেশের অন্য কিছু অংশেও এমনটা হচ্ছে। যেমন মুম্বই, অহমেদাবাদ, দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশেও করোনার দাপট কমেছে। কিছু জায়গায় শীর্ষে পৌঁছে এবার ধীরে ধীরে গ্রাফ নেমে আসছে, এমনটাই দাবি আধিকারিকের।

তবে কিছু জায়গায় সংক্রমণ বাড়ছে বলেও জানান করেন ডঃ গুলেরিয়া। যেমন তিনি বলেন, বিহারে, অসমে কেস বাড়ছে আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের আরও আগুয়ান হয়ে পরিস্থিতি সামলাতে হবে। ডঃ গুলেরিয়া জানিয়েছেন মাস্ক, নিরাপদ দূরত্ববিধি-র সাহায্যেও দেশের কিছু প্রান্তে কেস কমেছে।

কনটেনেমন্ট জোনের ব্যাপারে এইমস কর্তা বলেন, শুধু লকডাউন করলেই হবে না, এলাকার সব বাড়ির দিকে নজর রাখাও জরুরি।কোথাও নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কীনা, তাকে আলাদা করে রাখা হচ্ছে কীনা এই তথ্যগুলো জানা খুব জরুরি।

অন্যদিকে ভারতের কেন অন্যান্য দেশের তুলনায় মৃতের হার কম সেই বিষয়টিও ওই সাক্ষাৎকারে বিশ্লেষণ করেছেন গুলেরিয়া। তাঁর মতে, এদেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হলেও সুস্থ হয়ে ওঠার হার যথেষ্ট ভালো। তাঁর মতে আক্রান্ত হওয়া অসংখ্য মানুষ খুব সামান্য চিকিৎসাতেই বা প্রায় চিকিৎসা ছাড়াই একটা সময়ের পর সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। গড়পড়তা ভারতীয়দের রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতা যথেষ্ট ভালো বলেই এমনটা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। সব মিলিয়ে একরাশ আতঙ্কের মধ্যেও স্বস্তির খবর শোনাচ্ছেন ডঃ গুলেরিয়া।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।