স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান : করোনা ভাইরাস নিয়ে একদিকে যেমন প্রশাসনিক তৎরতা তুঙ্গে উঠেছে, তেমনি একের পর এক করোনা আতংকের ঘটনা ঘটেই চলেছে। ফলে রীতিমত চিন্তা ক্রমশই প্রকট আকার নিচ্ছে। এদিনই পূর্ব বর্ধমান জেলা মুখ্য স্বাস্থ্যাধিকারিক বর্ধমান জেলা পরিষদে ডা. প্রণব রায় পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রোগ্রেসিভ ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশনের ডাকা করোনা ভাইরাস নিয়ে অনুষ্ঠানে এসে জানিয়ে যান, একের পর এক করোনা আক্রান্তের কথা জানিয়ে ফোন পাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু তার কোনও বাস্তবতাই নেই।

সাধারণ মানুষ আতংকিত হয়ে তাঁদের ফোন করছেন। তিনি জানিয়েছেন, এদিনই বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে কেরল থেকে প্রায় ২৫০জনের ফিরে আসার কথা। তারজন্য জেলা প্রশাসন তৈরী আছে। মুখ্য স্বাস্থাধিকারিক জানিয়েছেন, করোনা নিয়ে অহেতুক আতংকিত হওয়ার কারণ নেই। সচেতনতামূলক নির্দেশিকা পালনের ওপরও তিনি এদিন জোড় দেন। এদিন তিনি জানিয়েছেন, বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কালনা ও কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল সহ মোট ৮০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরী করা হয়েছে। এছাড়াও বর্ধমান জেলা কৃষি ভবনেও আপদকালীন কোয়ারেণ্টাইন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে ১৩৮ বেডের। যদিও এখনও তা চালু হয়নি।

তিনি জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকেই তা চালু করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়াও বর্ধমান হাসপাতালে ২টি এবং কালনা ও কাটোয়ায় করোনা আক্রান্তের জন্য মোট ৪টি ডেডিকেটেড অ্যাম্বুলেন্স তৈরী রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁরা সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছেন। এদিকে, এদিনই পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সমস্ত কর্মীদের হাতে মেডিকেটেড মাস্ক তুলে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া জানিয়েছেন, জেলা জুড়ে তাঁরা সচেতনতার প্রচার চালাচ্ছেন। সমস্ত পঞ্চায়েতকেই করোনা নিয়ে প্রচারে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অহেতুক আতংক যাতে না ছড়ায় তার জন্য নজরদারী বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, এরই পাশাপাশি খোদ বর্ধমান জেলা পরিষদের এ্যাকাউণ্টস বিভাগের এক কর্মী সম্প্রতি নৈনিতালে চিকিত্সার জন্য যান। তিনি কয়েকদিন আগেই ফিরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানতে পারার পর ওই কর্মীকে আগামী ১৪দিন ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশের পাশাপাশি বাড়িতেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, এদিনই বর্ধমান শহরে এক হকারকে চড়া দামে মাস্ক বিক্রি করার ঘটনায় তাকে বর্ধমান থানার পুলিশ আটক করেছে।

যদিও ওই হকার কিভাবে সেই মাস্ক পেলেন এবং কার কাছ থেকে পেলেন – সেই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এরই পাশাপাশি এদিন সকাল থেকে বর্ধমান শহরের বাহির সর্বমঙ্গলাপাড়ায় আমেরিকা ফেরত এক ব্যক্তিকে নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ তোলেন, দিন চারেক আগে আমেরিকা থেকে ওই ব্যক্তি বাড়ি ফিরলেও তিনি কোনো চিকিত্সা করাননি। এব্যাপারে এলাকার বাসিন্দারাই পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ওই ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিত্সা করানোর এবং তার রিপোর্ট থানায় জমা দেবার নির্দেশ দিয়েছেন।