কাঁথি: ব্যবসার কাজে চিনে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে আলাপ পূর্ব মেদিনীপুরের পারুলিয়ার যুবকের। ২০১৩ সাল থেকে চলা প্রেম পরিপূর্ণতা পেল এবার। বিয়ে সারলেন পূর্ব মেদিনীপুরের পারুলিয়ার বাসিন্দা পিন্টু ও চিনের গুয়াংজির তরুণী জিয়াকি। পারুলিয়াতই বসেছিল বিয়ের আসর। এলাকার বহু মানুষ আমন্ত্রিত ছিলেন বিয়েতে। রীতি মেনে বাঙালি মতে হয় বিয়ের অনুষ্ঠান। তবে আনন্দের এই দিনেও খুশি নয় চিনের তরুণী জিয়াকি। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে চিন ছাড়তে পারেননি জিয়াকির পরিবার। সূদূর চিন থেকেই ফোনে আশীর্বাদ জানিয়েছেন বর-কনেকে।

একটানা কয়েক বছর প্রেমের পর চিনের তরুণী জিয়াকিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন পূর্ব মেদিনীপুরের পারুলিয়ার বাসিন্দা পিন্টু। পিন্টুর বরাবরের ইচ্ছে ছিল, বিয়েটা হোক তাঁর মেদিনীপুরের পারুলিয়ায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে। সেইমতো পরিকল্পনা করা হয়। বুধবার বসেছিল বিয়ের আসর। লাল বেনারসি পরে ছাদনাতলায় হাজির হন জিয়াকি। রীতি মেনে চলে শাঁখ বাজানো আর উলুধ্বনি। হিন্দু শাস্ত্র মেনে হয়েছে শুভদৃষ্টি, মালাবদল ও সিঁদুরদান।

জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের দিনেও মন-খারাপ জিয়াকির। চিন থেকে আসতে পারেনি তরুণীর পরিবার। করোনা-ভাইরাসের কবলে চিনের বিভিন্ন এলাকা। প্রতিদিনই চিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন হাজার-হাজার মানুষ। আপাতত বহির্বিশ্বের জন্য বন্ধ চিনের দরজা। চিন থেকে যেমন বাইরে যাচ্ছেন না কোনও নাগরিক। তেমনই বাইরে থেকেও চিনে ঢোকা প্রায় বন্ধ। নিতান্ত পেশাগত তাগিদ না থাকলে চিন যাচ্ছেন না কেউই। সেই কারণেই সূদূর চিনের গুয়াংজি থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের পারুলিয়ায় মেয়ের বিয়েতে আসতে পারেননি জিয়াকির পরিবার।