ফাইল ছবি

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন করোনা আক্রান্ত চতুর্থ ব্যক্তির প্রতিবেশীরা। এমনটাই খবর মিলছে ওই পাড়ার বাসিন্দাদের সূত্রে। নানারকম হ্যাশ ট্যাগ গুজব তো চলছেই। সঙ্গে সবাই চিন্তিত ওই বাড়ির কাজের লোকটিকে নিয়ে। অনেকে বলছেন তিনি নাকি ওই পাড়ার অনেক বাড়িতেই কাজ করে চলেছেন। কে না এখন জানে যে এই ভাইরাস এক জন থেকে অপরজনে হানা দিতে বেশি সময় নেয় না।

দমদমের কাজিপাড়ার কাছেই বাস ওই চতুর্থ আক্রান্তের। সাহানা গুপ্তা নামে ওই অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দার দাবি , ‘ওনার বাড়িতেই যিনি কাজ করেন, তিনি পাড়ার আরও বাড়িতে কাজ করেন এবং কাজ করে চলেছেন। পেশাগত কারণে, সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য বাইরে বেড়োতে বাধ্য অনেকেই। তাদের ওই বাড়ি, ওই গলির সামনে দিয়েই যাতায়াত করতে হয়।’

তিনি আরও জানাচ্ছেন, ‘জানিনা আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে দন্ডিত হব কি না’, কিন্তু ওই পাড়ার সকল বাসিন্দাকে আপাতত সবেতন ছুটি দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন ওই স্থানীয় মহিলার। অভিজিৎ সেনগুপ্ত নামে আর এক বাসিন্দা বলছেন, ‘ভদ্রলোক যে একই বাসে ওঠেন নি কিংবা তার সঙ্গে মিট করেছেন এ কদিনে এমন কেউ তার তো কোনও গ্যারান্টি নেই।করোনাকে কমব্যাট করার সবকিছুই এখন নিজেদের ইমিইনিটি লেভেলের ওপর ডিপেন্ড করে আর কতটা পার্সোনাল প্রিকশন নিচ্ছি তার ওপর ডিপেন্ড করছে।’

অনেকে আবার বলছেন, তিনি নাকি ভুটানে গিয়েছিলেন সম্প্রতি। সেখান থেকেই তিনি নাকি নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে ফিরেছিলেন বলে জানাচ্ছেন। যদিও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে এমন কোনও খবর স্পষ্ট করে বলা হয়নি। শুধুমাত্র জানানো হচ্ছে, তাঁর কোনও বিদেশ যোগ নেই। তাই এই তথ্যে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর ওই বাড়ির পরিচারিকা কাজ বন্ধ করেছে পরশু দিন অর্থাৎ ২০ মার্চ থেকে। ২১ মার্চ ওই ভদ্রলোকের ধরা পরে যে তিনি করোনা আক্রান্ত।

স্বাস্থ্যভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি গত ১৬ মার্চ থেকে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ৫৭ বছরের ওই ব্যক্তির লালারসের নমুনা আগেই পাঠানো হয়েছিল এসএসকেএম হাসপাতাল এবং নাইসেডে। দু’টি জায়গার পরীক্ষাতে আলাদা আলাদা রিপোর্ট আসে। তার পর ফের নাইসেডে পাঠানো হয় লালরস। তার পরেই জানা যায়, ওই ব্যক্তি কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ১৩ মার্চ থেকে তাঁর জ্বর-সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা যায়।

এর পর গত ১৬ তারিখে ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছিলেন তিনি। তাঁকে ভেন্টিলেটর এবং একমো সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। নাইসেড এবং এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হলে, দু’রকম রিপোর্ট পাওয়া যায়। এই পরিস্থিতিতে শনিবার দিন ফের তাঁর লালারসের নমুনা পাঠানো হয় নাইসেডে। রাতে রিপোর্ট আসার পর জানা যায়, ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।