স্টাফ রিপোর্টার,মালদহ: এ এক অন্যরকম জামাইষষ্ঠী। করোনা ভাইরাসের জেরে জামাইষষ্ঠীতে মুখে মাক্স পরে জামাইদের মঙ্গল কামনায় সামিল হলেন শাশুড়িরা। এমনকি পুরোহিতকেও মাক্স পড়েই এদিন পুজোর মন্ত্রোচ্চারণ করতে হল।

এই রকম নজিরবিহীন জামাইষষ্ঠীর পুজো আগে কখনও দেখা যায়নি। এবারে জামাইষষ্ঠী যেন স্মরনীয় হয়ে থাকল বাঙালির ঘরে ঘরে।

প্রতিবছরই জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে বটগাছকে উদ্দেশ্য করেই ষষ্ঠী পুজোর চল রয়েছে। কিন্তু এবারে সেই ষষ্ঠী পুজোর রীতি বাড়িতে বসেই সমদূরত্ব বজায় রেখেই পালন করতে হলো মহিলাদের। জামাইদের মঙ্গলকামনায় মুখে মাক্স পড়েই এবারে মালদহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ষষ্ঠী পুজোর পর্ব পালিত হয়।

বৃহস্পতিবার মালদহ শহরের মালঞ্চ পল্লী, কৃষ্ণপল্লি, নেতাজী কলোনি, বাসুলিতলা , দুই নম্বর গভমেন্ট কলোনি সহ একাধিক এলাকাতেই দেখা গিয়েছে কোথাও বাড়ির ছাদে, আবার কোথাও মন্দির প্রাঙ্গণে হাতে গোনা দুই-একজন মহিলারাই ষষ্ঠী পুজোয় সামিল হয়েছেন। তাও আবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে।

পুরোহিত আছেন মন্ত্র পড়ছেন, কিন্তু মুখে মাক্স পড়ে। কোনও রকমে জামাইষষ্ঠীর উপলক্ষে ষষ্ঠী পুজোর পর্ব কেটেছে নমঃ নমঃ করে।

এদিন দুই গৃহবধূ সুনিতা মল্লিক, মধুশ্রী চৌধুরী বলেন, “প্রতিবছরই আমরা পাড়ার মহিলারা একত্রিত হয়ে বটগাছের তলায় পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা করি। কিন্তু এবার করোনাভাইরাস সব ওলট পালট করে দিল। নিজেদের বাড়িতেই পুরোহিত দিয়ে কোনও রকমে পুজো দিয়েছি। পুজোর মধ্যেই মাক্স, স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হয়েছে ঘনঘন। এইভাবে জামাইষষ্ঠীর কাটবে তা কোনও দিনই ভাবতে পারিনি। তবে মঙ্গল কামনা বেশি করেছি পৃথিবীর। যেন করোনা মুক্ত হয় গোটা দেশ , গোটা বিশ্ব।”

এদিন বাসুলিতলা এলাকার পুরোহিত বিশ্বজিৎ ঝাঁ বলেন, “এরকম পুজো আমার পুরোহিত জীবনের ৩০ বছরের মধ্যে করিনি । ঘনঘন স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হয়েছে। মুখে মাক্স পড়ে মন্ত্রোচ্চারণ করেছি । জামাইষষ্ঠী তো বটে , কিন্তু ঈশ্বরের কাছে করোনা মুক্তির মঙ্গল কামনা করেছি মনের অন্তরাল থেকে।”

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV