প্রতীকী ছবি

কলকাতা: মমতার পরে এবার স্বাস্থ্য দফতর জানিয়ে দিল রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা। গত ঘন্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর সংখ্যাটাও অনেকটা কম।

রাজ্যে করোনা আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা বাড়তেই সেই সংখ্যা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। খবরে প্রকাশ মৃতের সংখ্যা ৬, এর পরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্যে যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মাত্র তিনজনের মৃত্যু হয়েছে করোনার জেরে।

অন্যদিকে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরও বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মাত্র তিন জনের।বাকি তিনজনের মৃত্যুর কারণও উল্লেখ করা হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিনে।

বুধবারই স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, ৫৭ বছর এবং ৬২ বছরের যে দুই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রচন্ড শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। এদের মধ্যে কিডনি সমস্যা একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যজনের শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয়েছে। আর তৃতীয় ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে উচ্চ রক্তচাপের কারণে।

এছাড়া এখনও পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে ৫৭ হাজার ৭৪১ জন। এদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে মাত্র ৩৩৭ জনকে। মঙ্গলবার এই সংখ্যাটা পৌঁছে গিয়েছিল ১০ হাজারের বেশি। স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭, মৃতের সংখ্যা ৩, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন ৩ জন।

বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, ”আজ বিকেল ৪টে পর্যন্ত রাজ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৩৭ জনের মধ্যে ৩ জন সুস্থ। এখন ৩১ জন পজিটিভ। ওঁদের মধ্যে ১৭ জন ৪টি পরিবারের। একজনের মৃত্যু হয়েছে নিউমোনিয়ায়, আরেক জনের মৃত্যু হয়েছে কিডনির সমস্যায়। সরকারি তথ্যের উপর চোখ রাখুন”।

এব্যাপারে সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীল হয়ে সংবাদ পরিবেশনের উপদেশও দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, জারি রয়েছে মহামারি আইন। মানে গ্রেফতার করা যেতে পারে যে কাউকে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল প্রচার পাওয়ার জন্য করোনা রোগী ভর্তি রয়েছে বলে দাবি করছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাদের সাবধান করে দেন মমতা। বলেন, লড়াইয়ের এই সময়ে এমন প্রচার চালাবেন না।

হাসপাতালগুলি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মৃত ৬ জনের প্রথম জনের মৃত্যু হয় যুবভারতী স্টেডিয়ামের পিছনে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। দ্বিতীয় জনের মৃত্যু হয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। মঙ্গলবার ভোরে তৃতীয় জন মারা যান হাওড়া জেলা হাসপাতালে। মঙ্গলবার চতুর্থ ও পঞ্চম জনের মৃত্যু হয় যথাক্রমে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ও এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে। বুধবার সকালে ষষ্ঠ জনের মৃত্যু হয়েছে রথতলার একটি নার্সিংহোমে।

এর আগে রাজ্যে ডেঙ্গুতে সংখ্যা কম করে দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল সরকারের বিরুদ্ধে। এবার করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়েও শুরু হল একই বিতর্ক।