কলকাতা: সরকারের ১.৭০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ দেখে স্বস্তিতে বণিকসভা বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স । সংগঠনের সভাপতি বিশ্ববিহারী চট্টোপাধ্যায়ের মতে, এটা হল সরকারের প্রথম ধাপ। তিনি আশা করছেন, ধাপে ধাপে এই সরকার ক্ষুদ্র, ছোট, মাঝারি এবং বৃহৎ শিল্পের জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।

বণিকসভার এই কর্তা জানান, তারা নিয়মিত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ইতিমধ্যে তাদের পক্ষ থেকে নানা পরামর্শ সরকারকে দেওয়া হয়েছে। এদিনের ঘোষিত সরকারি প্যাকেজকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। বিশেষত এই প্যাকেজে যেভাবে ডাক্তার স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিমার ব্যবস্থা করা হয়েছে তা দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই বিমার ব্যাপারে এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগকেও।

বণিকসভার এই কর্তার মতে, সরকার ঠিক পথেই এগোচ্ছে। প্রথমে একেবারে সমাজের দরিদ্র শ্রেণীর মানুষের জন্য খাদ্য সরবরাহের দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। যাতে এরা কেউ কোন ভাবে এই লকডাউন অবস্থায় অভুক্ত না থাকে। কারণ এই লকডাউনে‌ এদের আয় সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে। তার মতে, এই ২১ দিনের লকডাউনে যদি ভগবানের কৃপায় করোনা মোকাবিলার যুদ্ধে জয় আসে তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু যদি না আসে, তার পরেও যদি লকডাউন রাখার দরকার হয় তখন কি হবে? তখন নিশ্চয়ই সময় বিশেষে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলেই মনে করছেন। ‌

তাছাড়া সরকার যেভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে তাতে তার আগেও কিছু ঘোষণা করতে পারে বলেই তিনি আশা করছেন। বণিকসভার এই কর্তার অভিমত, সময় এগোলেই দেখা যাবে সরকার রিজার্ভ ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে ছোট মাঝারি সংস্থার কার্যকরী মূলধনের ব্যবস্থা করবে। কারণ উৎপাদন বন্ধ রেখে এভাবে কর্মীদের বেতন দিতে গেলে যে কোনও সংস্থার ভাঁড়ারে টান পড়বেই।

এদিন যেমন ঘোষণা হয়েছে পিএফ থেকে তিন মাসের বেতন অথবা জমার ৭৫% যেটি কম সেই পরিমাণ অর্থ নন রিফান্ডেবল অগ্রিম হিসেবে তুলে নেওয়া যাবে। এই পথে কর্মীদের সাময়িক অর্থের ব্যবস্থা হবে বলে মনে করছেন‌ তিনি। বণিকসভার এই কর্তা আবার আইটিসি ইনফোটেকেরও‌ ডিরেক্টর। তার অভিমত, এই অবস্থায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি অবশ্য তুলনায় পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে। যদিও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন সব কাজ কিন্তু ‘ওয়াক ফ্রম হোম’ হয় না।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা