ফাইল ছবি। ঘটনার সঙ্গে কোনও যোগ নেই

স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: আতঙ্কের নাম ‘করোনা’। মারণ এই ভাইরাস রুখতে সদা সচেষ্ট প্রশাসন। করোনা মোকাবিলায় একযোগে কাজ করে চলেছে কেন্দ্র এবং,রাজ্যসরকারগুলি। তবুও বাগে আনা যায়নি মারণ এই ভাইরাসকে। ফলে সাবধানতা এবং সচেতনতায় এখন এই ভাইরাস ঠেকানোর মূলমন্ত্র। এই অবস্থায় গোটা দেশজুড়ে ২১দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

তবুও কিছু সবজান্তা পাবলিকের জন্য করোনার ভয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা গিয়েছে,সাধারণ মানুষকেও। কিছু দায়িত্বহীন মানুষের জন্যই যে এদেশে করোনার আমদানি হয়েছে তা নিয়েও বহুবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হতে দেখা গিয়েছে নেটপাড়ার সদস্যদের। এবার সেই একই চিএ ধরাপড়ল পশ্চিমবঙের জলপাইগুড়ি জেলাতে।

দায়িত্বহীন মানুষদের করোনা সম্পর্কে সবক শেখাতে মাঠ নামলেন এই জেলার বাসিন্দারা। ফলে ভিনরাজ্য থেকে আগত এই জেলার বাসিন্দাদের কোনও রকম পরীক্ষা-নিরিক্ষা এবং মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া গ্রামে ঢুকতে বাঁধা দিল স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার এমনই ঘটনার সাক্ষী রইল জলপাইগুড়ি জেলার তিস্তার ধারের গ্রাম বিবেকানন্দ পল্লী। করোনা রুখতে সাবধানতা জরুরী। তাই গ্রামে অবাঞ্চিত লোক আটকাতে, গ্রামের প্রবেশ পথে গলির মুখে বাঁশ দিয়ে রাস্তা আটকে দিলো বিবেকানন্দ পল্লীর বাসিন্দারা।

জানা গিয়েছে, ৩১ নং জাতীয় সড়কের ধারে জলপাইগুড়ির তিস্তা ব্রিজ সংলগ্ন তিস্তা নদীর পাড়ের ছোটে গ্রাম বিবেকানন্দ পল্লী। দেশজুড়ে লকডাউন এর পরও প্রচুর লোক কোনওরকম সুরক্ষা বিধি না মেনেই গ্রামে ঢুকে যাচ্ছে। আর তাতেই বেজায় চটেছেন গ্রামবাসীদের একাংশ। ফলে গ্রামে অবাঞ্চিত লোকের প্রবেশ এড়াতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা। যাতে আর কিছু না হোক যতটা সম্ভব নিজেদের সুরক্ষিত রাখা যায়।

এই বিষয়ে গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এদের কেউ ভিন রাজ্য ফেরত কেউ আবার আশেপাশের এলাকা থেকে গ্রামে ঢুকে পড়ছে। তাই অবাঞ্চিত লোকদের গ্রামে ঢোকা বন্ধ করতে গ্রামের রাস্তা বাঁশ দিয়ে আটকে দিয়েছেন জলপাইগুড়ির বিবেকানন্দ পল্লী এলাকার বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের সদস্যরা। এই বিষয়গুলি নিয়ে ক্লাব সদস্য দেবাশিষ বিশ্বাস বলেন, “আমাদের গ্রামে ঢোকার মোট ৪টি রাস্তা আছে।

তার মধ্যে ১টি রাস্তা জরুরি প্রয়োজনের জন্য খোলা রাখা হয়েছে। ও বাকি ৩টি রাস্তা আটকে দিয়েছি। আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে গ্রামে করোনা সচেতনতা প্রচার চালিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছি, ভিনরাজ্য থেকে গ্রামে ফিরলে আগে হাসপাতালে গিয়ে চেকাপ করে ফিট সার্টিফিকেট নিতে হবে তারপর গ্রামে ঢুকে নিজে ১৪ দিন কোয়ারেনটাইন থাকার প্রতিশ্রুতি দিলে তবেই গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে। এছাড়াও নিজেদের পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে এলাকায় সাবান এবং মাস্ক বিলিও করেছি।”

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব