লিখছেন ড. অন্বেষা কর, ডেন্টাল সার্জন

করোনা সংক্রমন নিয়ে সারা বিশ্বে আতঙ্ক। মানুষকে কার্যত ঘরে আটকে রোগ প্রতিরোধ করতে হচ্ছে। হাটে বাজারে ভয় সর্বত্র। এমনকী শরীর খারাপ করলে হাসপাতালে যাওয়াও বিপদ। কিন্তু অনেকেই জানেন না, ডেন্টাল ক্লিনিকে সংক্রমনের ভয় সবথেকে বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল যে করোনা ভাইরাস বায়ুবাহিত নয়। যদিও ওরে গবেষণা করে দেখা যাচ্ছে যে এই ভাইরাস বাতাসেও বেঁচে থাকতে পারে বেশ কিছুক্ষণ। যদিও সেক্ষেত্রে বদ্ধ জায়গাতেই ভয় বেশি, খোলামেলা জায়গায় বায়ুবাহিত ভাইরাস দ্বারা সংক্রমণের ভয় কম। তবে, ডেন্টাল ক্লিনিকে এই ভাইরাস সংক্রমনের আশঙ্কা airborne অর্থাৎ বায়ু বাহিত জীবাণু দ্বারা সবথেকে বেশি।

দাঁতের যে কোনও ধরনের চিকিৎসার ক্ষেত্রেই হাই প্রেসার কম্প্রেসড এয়ার ব্যবহার করা হয়। সামান্য দাঁতের ক্যাভিটি ফিলিং করার জন্যও এয়ার সিরিঞ্জ ব্যবহার করা হয়, যাতে ড্রাই ওয়ার্কিং ফিল্ড তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে যদি কোনও রোগী করোনা আক্রান্ত হন, তাহলে ভাইরাসের কণা মুখগহ্বর থেকে হাওয়ার চাপে বাইরে বেরিয়ে আসে।

সেই কণা থেকে ভাইরাসে সংক্রামিত হতে পারে চিকিৎসক নিজে, ওই ক্লিনিকের পরবর্তী রোগী ও ক্লিনিকের অন্যান্য কর্মীরা। কারণ ওই ভাইরাস কোনও সারফেসে গিয়ে পড়ে না, হাওয়ায় ভেসে থাকে বেশ কিছুক্ষণ। যদিও প্রত্যেকে প্রোটেকশন নিয়ে থাকলে সংক্রমণের ভয় অনেকটা কম।

তাই অতিমারীর সময়ে খুব প্রয়োজন ছাড়া দাঁতের ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়ার দরকার নেই।

কোন কোন ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি?

১. যদি আপনার মাড়ি থেকে ক্রমগাত রক্ত বেরোয় ও কোনোভাবেই বন্ধ না হয়।
২. মাড়ি ফুলে যায়।
৩. দাঁতে অসহ্য যন্ত্রণা হয়
৪. গাল ফুলে যায়
৫. কোনও রকম ইনফেকশন হয়

এই সবকটি ক্ষেত্রে প্রথমে ওষুধ দিয়ে দেখা উচিৎ। তাতে কাজ না হলে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে। এছাড়া যারা নিয়মিত রুটিনমাফিক স্কেলিং, ফিলিং বা অর্থডন্টিক ট্রিটমেন্ট করান, সেগুলো আপাতত বন্ধ রাখুন।

ক্লিনিকের স্টাফ ও চিকিৎসকরা কীভাবে সুরক্ষা বজায় রাখবেন?

ডেন্টাল সার্জেনকে যে কোনও সার্জারির সময় অবশ্যই পিপিই কিট পরতে হবে। যত সম্ভব কম অ্যাসিস্ট্যান্টকে নিয়ে কাজ করতে হবে। অ্যাসিস্ট্যান্টকেও পিপিই পরতে হবে। প্রত্যেক রোগীর চিকিৎসা পর্ব শেষ হলে রুম সঠিকভাবে স্যানিটাইজ করতে হবে। দু’জন রোগীর মধ্যে সময়ের তফাৎ রাখতে হবে। যদি ক্লিনিকে এরকম ইনফ্রাস্ট্রাকচার না থাকে, সেক্ষেত্রে হাসপাতালে রেফার করতে হবে রোগীকে।

রোগীর মধ্যে করোনার কোনও উপসর্গ আছে কিনা, তিনি সম্প্রতি কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন কিনা এগুলো জানতে হবে। কোনও রকম সন্দেহ হলে তাঁকে করনা টেস্ট পারেন চিকিৎসক।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ