কলকাতা: বাংলায় এক পরিবারের শরীরে করোনা ভাইরাসের নমুনা। দিল্লিতে আইসোলেশন থেকে পালিয়ে নদিয়া চলে আসে এই পরিবার। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক কোনও তথ্যই রাজ্যকে দেয়নি, যা নিয়ে ব্যাপক ক্ষুব্ধ রাজ্য। বিষয়টি নিয়ে যখন তোলপাড় রাজ্য সেই সময় সামনে আসল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যাচ্ছে, দিল্লি থেকে কোনও নিয়মই মানেনি তেহট্টের এই পরিবার। অবাধে এলাকার মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেছে। যা যথেষ্ট চিন্তায় ফেলেছে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। ইতিমধ্যে কার কার সঙ্গে এই পরিবার মিশেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

এরই মধ্যে সামনে এসেছে আরও এক তথ্য। জানা যাচ্ছে, এই পরিবার দিল্লি থেকে রাজধানী এক্সপ্রেসে ফেরে। এরপর লালগোলা প্যাসেঞ্জারে নদিয়া তেহট্টে পৌঁছয়। সেখানে থেকে অটো করে বাড়ি ফেরে এই পরিবার। আর এই বিষয়টি সামনে আসতেই এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে আধিকারিকদের চিন্তা।

কারণ যেভাবে করোনায় আক্রান্ত এই পরিবার নদিয়া তেহট্টে পৌঁছেছে তাতে ব্যাপকহারে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও তা যাতে না হয় সেজন্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিছুজনের লালারস পরীক্ষাও করা হয়েছে।

শুক্রবার তেহট্টের পাঁচ জনের শরীরে মিলেছে করোনার জীবাণু। যার মধ্যে নয়মাসের এক বাচ্চাও রয়েছে। এই পরিবারের গত কয়েকদিনের ইতিহাস খতিয়ে দেখছিলেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। আর তা দেখতে গিয়েই সামনে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুধু তেহট্টের প্রতিবেশীরাই নন, আরও বহু মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন এই পাঁচ জনের দ্বারা এখন এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, দুই মহিলা দিল্লির হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত তাঁদের এক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেন। সেই সময় ছিল বাচ্চাগুলিও।

সেই সময় দিল্লিতে তাঁদের হোম আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়। কিন্তু সবার নজর এড়িয়ে তাঁরা বাংলায় চলে আসে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে যে গত ১৯ মার্চ সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই নিউ রাজধানী এক্সপ্রেসে ওঠেন তাঁরা। এর ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ২০ মার্চ সাড়ে দশটা নাগাদ শিয়ালদহ পৌঁছন। সেখান থেকে লালগোলা প্যাসেঞ্জারে সোজা চলে যান তেহট্টে।

এখানেই শেষ নয়, বাড়ি পৌঁছানোর জন্যে তাঁরা একটা অটো ভাড়া করেন। সেই সময় তাঁরা ছাড়াও অটোতে আরও কেউ ছিল কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্নের। কিন্তু যেভাবে রাজধানী, লালগোলা এবং পড়ে অটোতে উঠলেন তাতে প্রচুর মানুষের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন রাজ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।

জানা যাচ্ছে ইতিমধ্যেই তেহট্টের কুড়ি জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কিন্তু এখানেই বিষয়টি থেমে গেলে স্বস্তি। কিন্তু এরপর যদি আরও মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে তাহলে! যদিও স্বাস্থ্য আধিকারিকরা যেভাবে এই লড়াই জেতার জন্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তা স্যালুট জানানোর মতোই।