কলকাতা: অন্যান্য রাজ্যের মতই পশ্চিমবঙ্গেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল ৪৯।

শনিবারই এই তথ্য প্রকাশ করলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা। এরাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তিনি জানিয়েছেন, এর পাশাপাশি রাজ্য সরকার করোনা মোকাবিলায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তাও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

তিনি জানিয়েছেন, করোনা মোকাবিলায় রাজ্যে ৭টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি সরকারি ছাড়াও ২টি বেসরকারি পরীক্ষা কেন্দ্র। আরও কয়েকটি হাসপাতালে পরীক্ষা কেন্দ্র চালুর চেষ্টা চলছে বলেও জানান মুখ্য সচিব।

আরও ১৩ হাজার ৫০০ পিপিই পেয়েছে রাজ্য সরকার, ৫০ হাজার মাস্ক বিতরণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কলকাতায় ৪, জেলায় ৫৫ হাসপাতালে করোনার চিকিৎসার ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

এছাড়া রাজ্য জুড়ে রয়েছে ৫১৬টি কোয়ারেন্টিন সেন্টার। রাজ্যে হোম কোয়ারেন্টিনে এই মুহূর্তে আছেন ৫২ হাজার ৮০জন। হোম কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্ত ৩ হাজার ৩৬জন। সরকারি কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্ত ৩ হাজার ৩৮৬জন।

করোনা নিয়ে শুক্রবারই কিছুটা স্বস্তির খবর শোনান মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ৯ জন। এই নিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়াল মোট ১২জন৷ তবে পাশাপাশি তিনি এটাও জানান, এই দু’সপ্তাহে একটু বাড়বে, তবে চিন্তার কারণ নেই। আমরা চিকিৎসা করে সুস্থ করব। শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়৷

এদিকে, দিল্লির নিজামউদ্দিন ফেরত হলদিয়ার বাসিন্দা এক ব্যক্তির দেহে মিলল করোনা পজিটিভ।

তিনি ৩১মার্চ থেকে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। ২ মার্চ তাঁর সোয়াব পাঠানো হয় কলকাতায়। সেদিন রাত ১০টা নাগাদ বেলেঘাটা আইডি থেকে খবর আসে, তাঁর করোনা পজিটিভ। রাতেই তাঁকে বেলেঘাটায় স্থানান্তরিত করা হয়।

এই মুহুর্তে তাঁর পরিবারের ৫জনকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই শুক্রবার সকাল থেকে হলদিয়া শহর জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সিআইএসএফ বন্দর ফাঁকা করছে। নিজামউদ্দিন ফেরত ওই ব্যক্তির করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসায় হলদিয়া বন্দরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, ওই ব্যক্তি বন্দরের ১৩ নম্বর জেনারেল কার্গো বার্থ বা জিসি বার্থে একটি বেসরকারি ক্রেন অপারেটিং সংস্থায় সুপার ভাইজারের কাজ করেন।