স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি : হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা । তারপরেই বাঙালি মেতে উঠবে তাঁদের প্রানের পুজো দুর্গা পুজোর আনন্দে। ইতিমধ্যেই কলকাতা সহ শহরতলির সব জায়গাতেই শুরু হয়ে গিয়েছে বাঁশ বাধার কাজ। সারা বছরের অপেক্ষার শেষে বাঙালির কাঙ্ক্ষিত এই পাঁচটি দিন যাতে আরও সুন্দর প্রানোচ্ছল হয়ে উঠে তারই প্রচেষ্টায় থাকে বিভিন্ন পুজো কমিটি গুলির উদ্যেক্তারা।

পুজো কমিটির উদ্যেক্তারা যে সারাবছর ধরে ভেবে আসেন পরেরবার পুজোতে কী নতুন আবিস্কার দর্শকদের উপহার দেবেন, সেই চিন্তা ভাবনার ফল ধরা পড়ে মণ্ডপগুলিতে। যা দেখতে ভিড় জমান দূর দুরান্ত থেকে আগত বহু দর্শনার্থী।

বেশ কয়েক বছর ধরে রাজ্য স্তরের পাশাপাশি সেরা পুজোর তালিকায় উঠে আসছে জেলার বিখ্যাত বিখ্যাত কিছু পুজো কমিটির নাম। আর সেই রেশ বজায় রাখতে গত কয়েক বছর ধরে চলছে শহরের সঙ্গে জেলার পুজো মণ্ডপ থেকে শুরু করে প্রতিমা সব কিছুতেই প্রতিযোগিতা। আর এই প্রতিযোগির তালিকায় জলপাইগুড়ি জেলার নাম উঠে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে।

আসন্ন দুর্গা পুজোয় এবার জলপাইগুড়ির পাতকাটা কলোনির অন্তর্গত অগ্রনি সংঘের বিশেষ আকর্ষণ হল সম্পূর্ণ ভুট্টা দানা দিয়ে তৈরি করা হবে এই পুজো মণ্ডপ। পুজো কমিটির সম্পাদক প্রদ্যুত দাস জানান, তাঁদের ক্লাবের পুজো এবার ৬২ বছরে পড়বে । আর তাইতো প্রতিবারের ন্যায় এবারও নতুন কিছু তৈরির প্রচেষ্টাকে মেলে ধরা হবে দর্শনার্থীদের সামনে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, জলপাইগুড়ি শহরের বেশ কয়েকটি বিগ বাজেটের পুজোর মধ্যে তাঁদের ক্লাবের পুজোও অন্যতম। ক্লাব কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রতি বছরই নতুন নতুন ভাবনা তুলে ধরা হয় তাঁদের পুজো মণ্ডপে। ক্লাবের তরফে জানা গিয়েছে, ১০ লাখ টাকা বাজেটের এই পুজোতে পুরো মণ্ডপটি তৈরি করতে প্রায় ২০০ কুইন্টাল ভুট্টার দরকার পড়বে। জানা গিয়েছে, মণ্ডপ তৈরি করবে যে ডেকরেটর সংস্থা তারাই নিজ উদ্যগে নিজেদের এলাকা থেকে এই ভূট্টা জোগার করেও ফেলেছেন।

ডেকরেটরের প্রধান লক্ষন বর্মণ জানিয়েছেন, ২০ জন শিল্পী মিলে দিন রাত এক করে এই মণ্ডপ সজ্জার কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ভুট্টার দানা এবং একটা গোটা ভুট্টাকে ভেঙে দুভাগ করে তাতে আঠা লাগিয়ে বিভিন্ন রকমের মডেল তৈরি করে সুন্দর একটি পুজো মণ্ডপ উপহার দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। আপাতত জোর কদমে চলচ্ছে মণ্ডপ প্রস্তুতির কাজ।

দর্শনার্থীদের শুধু সুন্দর মণ্ডপ এবং প্রতিমা উপহার দেওয়ায় নয় এই ক্লাব কমিটির সম্পাদক প্রদ্যুত দাস জানিয়েছেন, তাঁদের পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন করা হবে চতুর্থীর দিন এবং সেই দিন থেকেই দূর দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে মণ্ডপের প্রবেশদ্বার । এই পুজো মণ্ডপের উদ্বোধনে থাকবেন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার।

আরও পড়ুন : পূর্ব মেদিনীপুরের আকর্ষণ ৪০ ফুটের ২০ হাতের দুর্গা

শুধু তাই নয় সম্পূর্ণ সিসিটিভি দিয়ে মোড়া এই মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের জন্য পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য আলাদা আলাদা গেটের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গিয়েছে পুজো কমিটির পক্ষ থেকে। পাঁচ দিনের এই পুজোতে তিনদিন ধরে চলবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং চতুর্থীর দিন এলাকার দুঃস্থ অসহায় ছেলে মেয়েদের বস্ত্র বিতরন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

জেলা এবং রাজ্য স্তরের পুরষ্কার প্রাপ্ত এই ক্লাবের পুজোতে যাতে কোনও রকম অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটে সেই দিকে করা নজর রাখবে ক্লাব সদস্যরা। সেই সঙ্গে পুজো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের বিশেষ করে মহিলাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে জেলা পুলিশ এবং প্রশাসনের তরফ থেকে সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্লাব সম্পাদক।