বিষ্ণুপুর: করণা মোকাবিলায় সারা দেশে চলছে লকডাউন৷ দিনের নির্দিষ্ট সময় ছাড়া খুলছে না দোকান বাজার৷ সংকটের এই দিনে বিপাকে পড়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের দিপালী দাস৷ হঠাৎই বাড়িতে শেষ হয়ে গিয়েছিল রান্নার গ্যাস৷ চাকরি সূত্রে বাইরে থাকেন দুই ছেলে৷ কী করবেন ভেবে উঠতে পারছিলেন না অসহায় বৃদ্ধা৷ কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়াননি প্রতিবেশী৷ পুলিশকে পাশে পেলেন ওই বৃদ্ধা৷ গ্যাসের সিলিন্ডার বাড়িতে পৌঁছে দিলেন পুলিশকর্মীরা৷ সংকটের এই দিনে পুলিশের এই মানবিক আচরণে তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানান ওই বৃদ্ধা৷

মরণ করোনার সংক্রমণে কাঁপছে সারা দেশ৷ সংক্রমণ রুখতেই দেশজুড়ে টানা ২১ দিনের লকডাউন চলছে৷ নির্দিষ্ট সময় ছাড়া বন্ধ থাকছে দোকান বাজার৷ সংক্রমণ এড়াতে বন্ধ অফিস-আদালত এবং পরিবহন ব্যবস্থাও৷

বিষ্ণুপুরের সারোদা গার্ডেন এর বাসিন্দা দিপালী দাস নামক এক বৃদ্ধার রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার হঠাৎ করেই শেষ হয়ে যায়৷ রান্না বন্ধ হয়ে যায়৷ কী করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না৷ অবশেষে ফোনে একটি গ্যাস বুক করেন৷ কিন্তু বুকিং করার পরেও আস্তে গ্যাস বাড়িতে পৌঁছতে এখনো ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগতে পারে৷ তা জানার পর বৃদ্ধা সাহায্যের জন্য যান পাশের বাড়িতে৷ ডাবল সিলিন্ডার থাকা সত্ত্বেও বৃদ্ধাকে একটি গ্যাসের সিলিন্ডার দেননি প্রতিবেশী৷

এরপর বাধ্য হয়েই পরিচিত আরও এক মহিলার কাছে কিছুটা কেরোসিন তেল চেয়ে নিয়ে আসেন৷ তারপর পুরনো স্টোভ বের করে সেটি জ্বালানোর চেষ্টা করেন৷ কিন্তু দীর্ঘদিন না-জ্বালানো অবস্থায় পরে থাকা সেই স্টোভও কিছুতেই জ্বলেনি৷

রান্না বন্ধ হয়ে যায়৷ খবর পেয়ে রাত থেকে প্রায় কিছু না-খাওয়া বৃদ্ধার বাড়িতে পৌঁছে যান বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ আধিকারিক মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সহকর্মীরা৷ দিপালী দেবীর বাড়িতে গ্যাসের একটি সিলিন্ডার লাগিয়ে দেন৷ সংকটের এই দিনে পুলিশের এই ভূমিকায় উচ্ছ্বসিত ৬৫ বছরের এর বৃদ্ধা দিপালী দাস৷ পুলিশকর্মীদের পরে তার বাড়িতে আমন্ত্রণও জানান তিনি৷

একইভাবে অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়াতে পেরে খুশি পুলিশকর্মীরাও৷ দিপালীদেবীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন তারা৷ পরে সুযোগ পেলে ফের এই বাড়িতে আসবেন বলে জানিয়েছেন বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ আধিকারিক মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায়৷