সারা শহর জুড়ে এখন শুধুই সাজ সাজ রব। প্যান্ডেল থেকে শুরু করে বাড়ির অন্দরমহল সবাই এখন নিজেকে সাজাতেই ব্যস্ত। হাজার আনন্দ উদ্দীপনার মধ্যে বাঙালি যে জিনিসটা একদম ভুলে যেতে পছন্দ করে না সেটা হল পুজোর পাঁচদিন দেবী দুর্গার পুজোর সাথে সাথে নিজেদের পেট পুজো করা ভালো করে। আর পাঁচদিনের পেট পুজোতে যারা বাড়ির বাইরে খেতে যেতে একদমই পছন্দ করেন না, তাঁদের জন্য বাড়িতেই স্পেশাল রান্নার রেসিপি রইল আমাদের এই প্রতিবেদনে।

চট জলদি দেখে নিন পুজোর কোনদিন কোন পদের রেসিপি শোভা পাবে আপনার রান্নাঘরের থালিতে। রেসিপি দেব আমরা, রান্না করে চেখে দেখবেন আপনি।

পনীর টিক্কা মশালা

পুজোর দিনে অনেকেই নিরামিষ খান৷ তাদের জন্য এই পদ৷ পনীর যদি বাড়িতেই রেস্টুরেন্ট স্টাইলে বানানো যায় তাহলে তো আর কোনও কথাই নেই।

উপকরন- পনীর টিক্কা মশালা বানাতে পনীর নেবেন ২০০ গ্রাম। একটু বড় কিউব করে কেটে নেবেন।
টম্যাটো ৩ টি, পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। ১ টি বেল পেপার, পেঁয়াজের মত সাইজ করে বড় অংশ কেটে নেবেন, দই ১-কাপ, আদা ১ ইঞ্চি লম্বা করে কেটে রাখবেন, কাশ্মিরি রেড চিলি পাউডার ২-চামচ, আদা এবং ৫ টি রসুনের কোয়া একসাথে নিয়ে পেস্ট বানিয়ে নেবেন। কাঁচালঙ্কা যতটা ঝাল খেতে চান আপনি ততটাই নেবেন। সর্ষের তেল ৪-চামচ, জিরে ফোঁড়নের জন্য, ধনে,জিরে গুঁড়ো ২-চামচ, কসৌরি মেথি গুঁড়ো ২-চামচ, কাজু বাটা আধ কাপ, গরম জল দেড়কাপ, চিনি ১-কাপ, লবন স্বাদমত, ধনেপাতা কুচি গার্নিশ করতে।

প্রণালী- প্রথমে একটি বড় পাত্রে আধকাপ দই চামচ দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন। তাতে একচামচ কাশ্মীরি রেড চিলিপাউডার, এক চামচ আদা-রসুন বাটা, একচামচ ধনে -জিরে গুঁড়ো, একচামচ গরম মশলা গুঁড়ো, লবন, কসৌরি মেথি, একচামচ সর্ষের তেল এবং লেবুর রস দিয়ে আবার ফেটান।

এবার পনীর, বেলপেপার এবং পেঁয়াজের টুকরো গুলি এই মিশ্রণে দিয়ে আবার ম্যারিনেট করুন ঘণ্টাখানেক। এরপর একটা বাটিতে অর্ধেক দই অল্প জল দিয়ে ফেটিয়ে সরিয়ে রাখুন। পনীর এবং বাকি সবজি গুলি ম্যারিনেট হয়ে গেলে ওভেনে দিয়ে একটু লালচে রঙ বেরলেই বের করে নিন। দেখবেন পুড়ে যেন না যায়। এবার কড়াইতে তেল গরম করুন। তাতে জিরে ফোঁড়ন দিয়ে আগে থেকে কেটে রাখা পেঁয়াজের কুচি দিয়ে লালচে করে ভাজুন। আদা রসুনের পেস্ট দিয়ে আবার ভাজুন। মিনিট দুয়েক পর তাতে টম্যাটোর পেস্ট দিন। ভালো করে নাড়িয়ে ঢাকা দিয়ে রান্না করুন৷ মাঝে মাঝে নাড়বেন যতক্ষন না পাশ দিয়ে তেল বেড়ছে। এরপর তাতে লবন, কাশ্মিরি লঙ্কার গুঁড়ো, আদাকুচি, চেরা লঙ্কা, ধনে-জিরে গুঁড়ো, গরম মশলা গুঁড়ো, চিনি দিয়ে আবার নাড়ুন।

এবার ওই মিশ্রণে কাজু পেস্ট দিন এবং আঁচ কম করে ঢাকনা অল্প ফাঁকা করে নাড়তে থাকুন। না হলে পুড়ে যেতে পারে। কাজুর কাঁচা ভাব কাটলে তাতে জল মিশিয়ে আবার নাড়তে থাকুন। আপনি যদি ক্রিম ব্যবহার করেন তাহলে এখন সেটি মেশাতে পারেন। এবং যদি দই ব্যবহার করেন তাহলে আঁচ বন্ধ করে মশলাতে দইয়ের মিশ্রণ যোগ করুন। এবার কড়াইতে পনীর এবং বাকি সবজি মেশান।এরপর বাকি এক চামচ লেবুর রস, কসৌরি মেথি রান্নায় ছিটিয়ে ধনেপাতা সহযোগে সাজিয়ে ফেলুন পনীর টিক্কা মশালা।

চিংড়ির পেঁয়াজা

আপনি এটাকে দো- পেঁয়াজাও বলতে পারেন। তবে এটি সেই অর্থে দো- পেঁয়াজা নয়। পুজোআচ্ছার দিনে চিংড়ি মাছের বাঁধাধরা পদ থেকে বেরিয়ে একবার টেস্ট করেই দেখুন চিংড়ির এই রেসিপিটি।

উপকরণ- মাঝারি সাইজের খোসা ছাড়ানো চিংড়ি মাছ ১০০ গ্রাম। পেঁয়াজ ঘন করে কুচি বড় বড় চারটে। শুঁকনোলঙ্কা গোটা ৬, লবন স্বাদমত, হলুদ পরিমানমত, শুঁকনোলঙ্কার গুঁড়ো হাফ চামচ, সর্ষের তেল ৬-চামচ, সাদাতেল ২-চামচ।

প্রণালী- প্রথমে চিংড়ি মাছ গুলিকে লবন- হলুদ মাখিয়ে সাদা তেলে ভালো করে ভেজে তুলুন। এবার কড়াইতে সর্ষের তেল দিন। তেল গরম হলে তাতে শুঁকনোলঙ্কা দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। শুঁকনোলঙ্কার ভাজা গন্ধ বেরিয়ে এলে তাতে পেঁয়াজ কুচি গুলো দিয়ে ঢিমে আঁচে বাদামী হওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। তাতে লবন- হলুদ দিন, ইচ্ছে হলে লঙ্কার গুঁড়োও দিতে পারেন। পেঁয়াজ বাদামী হয়ে তেল ছেঁড়ে এলে এবার তাতে ভাজা চিংড়ি মাছ গুলো ছেঁড়ে ভালো করে ভাজুন। ভাজা হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। আর গরম গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন চিংড়ির দো- পেঁয়াজা।

স্পাইসি চিকেন উইংস

পুজোর পাঁচদিনের যে কোনও একদিন বাড়িতেই এই সহজ স্বাস্থ্যকর রেসিপিটি ব্যবহার করতে পারেন। মুখের স্বাদ বদলাতে বাড়ি বসেই বানিয়ে ফেলুন স্পাইসি চিকেন উইংস।

উপকরন- চিকেন উইংস ১০/১২ টি । লবন পরিমানমত, গোলমরিচ ১-চামচ, লেবুর রস বড় ১-চামচ, রসুন গুঁড়ো ১-চামচ, অ্যালুমিনিয়াম ফ্রি বেকিং পাউডার ১-চামচ, অথবা কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো ১-চামচ।

প্রণালী- স্পাইসি চিকেন উইংস বানানোর সবথেকে জটিল প্রক্রিয়া হল চিকেন উইংসের গা থেকে চামড়া ছাড়ানো। প্রক্রিয়াটি সহজ হবে কি উপায়ে জানেন? খালি হাতে চামড়া ধরে টানাটানি না করে দুই হাতে পেপার টাওয়াল অথবা তোয়ালে কাপড় ধরনের কিছু নিয়ে চিকেনের গা থেকে চামড়া ছাড়ান। দেখবেন ব্যাপারটা কেমন সহজ হয়ে যাবে। এবার চামড়া ছাড়ানো হয়ে গেলে উইংস গুলি ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে পেপার টাওয়াল দিয়ে ভালো করে শুকনো করে মুছে নিন।

তারপর একটি বাটিতে সব উপকরনগুলি মিশিয়ে নিন ভালো করে। চিকেন উইংস গুলিও মিশ্রণে মিশিয়ে নিন সমপরিমাণে। এবার মশলা মাখানো ওই চিকেন উইংসগুলি ফ্রিজে রেখে ঘণ্টাখানেক ম্যারিনেট করুন। তারপর ওভেনের উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করুন ব্রয়েলে। চিকেন উইংস গুলি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে সাজিয়ে নিয়ে গরম ওভেনে রেখে ঝলসে নিন ২০ মিনিট ধরে। এবার আপনার পছন্দমত সস সহযোগে পরিবেশন করুন হোম মেড স্পাইসি চিকেন উইংস।

পনীর মোগলাই

ভোজন রসিক বাঙালি অথচ মোগলাই খেতে পছন্দ করেননা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ দুস্কর। কারন সবার সঙ্গে গল্প করতে বসে একটা আধটা মোগলাই খেতে আমরা সবাই ভালোবাসি। খুব সহজেই বাড়িতেই তৈরি করা যাবে এই পনীর মোগলাই। দেখে নিন কি কি উপকরন লাগবে পনীর মোগলাই বানাতে।

উপকরন- পুরের জন্য- পনীর ২-কাপ গ্রেটেড। ক্যাপ্সিকাম- ১টি, গাজর- ১টি গ্রেটড,মাঝারি সাইজের পেঁয়াজ-১টি কুচান,আদা- রসুন বাতা-১চামচ, লবন- হলুদ পরিমানমত, জিরে গুর-হাফ চামচ, ধনিয়া গুঁড়ো-হাফ চামচ, গরমমশলা গুঁড়ো- হাফ চামচ এবং আমচুর-১চামচ।

রুটি বানানোর জন্য- ময়দা-১কাপ, তেল-২ টেবিল চামচ, লবন স্বাদমত, জল যতটা মাখতে লাগবে।

প্রণালী- সবার প্রথমে কড়াইতে পরিমানমত তেল দিয়ে তারমধ্যে পেঁয়াজ গুলো ছেঁড়ে দিয়ে হালকা আঁচে ভাজতে হবে। পেঁয়াজগুলো বাদামী রঙ ধরলে তারমধ্যে সব মশলা গুলো দিয়ে একে একে মিনিট পাঁচেক ধরে নাড়তে হবে। সব মশলা ভাজা হয়ে গেলে ক্যাপসিকাম আর গাজর দিয়ে মিনিট দুই-তিনেক নেড়ে তারমধ্যে পনীর ঢেলে দিন। এইসবের মিশ্রণ হালকা আঁচে ভাজতে হবে নইলে পুড়ে যাবে। এবার পুর রেডি।

পরের ধাপে বড় রুটি বানিয়ে তার মধ্যে পুর স্প্রেড করে দিয়ে চারদিক থেকে ভাঁজ করতে হবে। এবার একটা ফ্রাই প্যানে এপাশ-ওপাশ ভেজে নিয়ে তারউপর অল্প তেল ছড়িয়ে আবার এপাশ ওপাশ ভেজে নিলেই মোগলাই রেডি।