ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নির্বাচনের কয়েক ঘন্টা আগে কোচবিহারের পুলিশ সুপার’কে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন৷ সরব তৃণমূল কংগ্রেস৷ কমিশনে’র সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতমূলক৷ অভিযোগ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিল রাজ্যে’র শাসক দল৷

আরও পড়ুন: নির্বাচনী আধিকারিকের আশ্বাসে খুশি মনে ভোটে নামবেন শিক্ষাকর্মীরা

বুধবার দিল্লিতে কমিশনের দফতরে গিয়ে অভিযোগ জানাবে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল৷ তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, ১০ই এপ্রিল বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ তারা যাবেন কমিশনের দফতরে৷

মঙ্গলবার কোচবিহারের পুলিশ সুপারকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। আইপিএস অভিষেক গুপ্তা ছিলেন কোচবিহারের পুলিশ সুপার। তাঁর জায়গায় নিয়ে আসা হল অমিত কুমার সিংকে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবারই তাঁকে দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় কমিশনের তরফে।

গত রবিবারই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কোচবিহারের রাসমেলা মাঠে জেলার এসপি অভিষেক গুপ্তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জানান বিজেপি নেতা মুকুল রায়। এমনকি প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে পুলিশ সুপারের নাম করে হুমকিও দেন।

মুকুল রায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “রাসমেলা মাঠে সভার অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে কোচবিহার জেলার রিটার্নিং অফিসার কৌশিক সাহা ও পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তা যে নোংরামি করলেন তা মনে রাখবো।” তারপরেই পুলিশ সুপারের উদ্দেশে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে মুকুল রায় বলেন, “আমিও ১০ বছর রাজনীতিতে থাকবো। আপনি কত বড় পুলিশ সুপার তা আমি দেখে নেব।”

আরও পড়ুন: ‘শহিদদের মৃত্যু ব্যর্থ হবে না’, বিস্ফোরণের পর বললেন নরেন্দ্র মোদী

রবিবারের সেই সভার ৪৮ ধন্টার মধ্যে কোচবিহারের এসপিকে সরিয়ে দেয় কমিশন৷ তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রের কাছে মাথানত করেছে কমিশন৷ বিজেপি নেতাদের কথায় কাজ করছে নির্বাচন কমিশন৷ এতেই শেষ নয়৷ জোড়াফুল শিবিরের অভিযোগ, একটি বিশেষ দলকে সুবিধে করে দিতেই এই পদক্ষেপ করেছে কমিশন৷

কমিশনের উদ্দেশ্যে তৃণমূলের প্রশ্ন, কী অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেক গুপ্তাকে কোচবিহারের এসপি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল তা জানানো হোক৷ রাজ্যের শাসক দলের অভিযোগ, পদ্ধতি মেনে এক্ষেত্রে এসপিকে সরানো হয়নি৷ সূত্রের খবর, নতুন দায়িত্বাপ্রাপ্ত আইপিএস অমিত কুমার সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তৃণমূলের৷

আরও পড়ুন: রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিত কর পুরকায়স্তকে অপসরণের দাবি জানালো বিজেপি

এই প্রথম নয়৷ এর আগে কলকাতা ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার এবং ডায়মণ্ডহারবার পুলিশ জেলার এসপিকে সরিয়ে দেয় কমিশন৷ রীতি মেনে পদক্ষেপ করেনি কমিশন৷ প্রতিবাদ জানিয়ে কমিশনের কাছে অভিযোগ জানায় তৃণমূল৷ জবা কমিশনের তরফে জানানো হয়, নির্দিষ্ট আইন ও সংবিধান মেনেই কাজ করেছে কমিশন৷

আরও পড়ুন: মমতার মতো অভিষেকও মিথ্যে কথা বলছে: বিস্ফোরক সুভাষ

কমিশন-তৃণমূল সংঘাতের আবহ ছিলই৷ মঙ্গলবারে কোচবিহারের পুলিশ সুপারকে সরানোর পর সেই সংঘাত  আরও জোড়াল হল বলেই মনে করা হচ্ছে৷

বিস্তারিত আসছে…