স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ওঁরা বললেন ‘গো ব্যাক’, রাজ্যপাল বললেন ‘সমাবর্তন বন্ধ করুন’। কিন্তু কে কার কথা শোনে। তাঁর ক্ষোভের কথা কেউ শুনলই না। টানা চলল তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন। এমনভাবেই যাদবপুরের বিশেষ সমাবর্তনের আগে নাটক চলল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। শেষে ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল বেরিয়ে গেলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন ছেড়ে।

মঙ্গলবার রাজ্যপালের গাড়ি যাদবপুর চত্বরে প্রবেশের সঙ্গে বিক্ষোভের মুখে পড়ে। দেড় ঘণ্টা ধরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে ফোন করলে রাজ্যপাল বলে তিনি বলেছেন, তিনি কিছু করতে পারছেন না। উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে বলতে শোনা যায় রাজ্যপালকে। ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল সংবাদমাধ্যমকে বলেন , ‘সমস্ত ঘটনা রাজনৈতিক ভাবে ইচ্ছা করে ঘটানো হচ্ছে। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। ছাত্রদের ভবিষ্যৎ একদম গোড়া থেকে নষ্ট করে ফেলতে শেখাচ্ছে এই জঘন্য প্রশাসন। আমি অপমানিত বোধ করছি’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে যায় রাজ্যপালের গাড়ি। কিন্তু সেই দরজা দিয়ে একটু এগোনোর পরেই রাজ্যপালের গাড়ি আটকে দেয় তৃণমূল সমর্থিত শিক্ষাকর্মী সংগঠন। তাঁকে নাগাড়ে দেওয়া হচ্ছে ‘গো ব্যাক স্লোগান’। কালো পতাকা দেখানো হচ্ছে। রাজ্যপাল গাড়ির মধ্যে থেকেই এই অবস্থার কথা টুইটারে লিখেছেন।

তিনি জানিয়েছেন , ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃতি পড়ুয়াদের সম্মান প্রদান করতে এসেছি, কিন্তু আমাকে ভিতরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি খুবই বীতশ্রদ্ধ এই ঘটনায়।’,তবে এরপরেও তাঁদের অবস্থান থেকে নড়তে রাজি নয় ওই শিক্ষাকর্মীরা। স্পষ্ট জানানো হচ্ছে কোনওভাবেই তাঁরা আজকের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাজ্যপালকে যেতে দেবেন না। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যপাল এনআরসি, ক্যাব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে যাচ্ছেন। রাজ্যের মানুষের জন্য যা সুখকর নয়। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির মত তিনি কাজ করে চলেছেন। তিনি কার্যত ‘পদ্মপাল’-এ পরিণত হয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। এমন ব্যাক্তিত্বকে তাঁরা যাদবপুরের শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করতে দিতে রাজি নয় তৃণমূল সমর্থিত শিক্ষাকর্মী সংগঠনের কর্মীরা। পাশাপাশি পড়ুয়ারাও রাজ্যপালের থেকে পুরস্কার নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। রাজ্যপালকে বয়কটের ডাক দিয়েছে তারা।

সোমবারও একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল রাজ্যপালের। বিনা নিমন্ত্রণেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজির হয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। আর তার জেরে রাজ্যপালকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পড়ুয়ারা। রাজ্যপালকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে আটকে রেখেই চলতে থাকে গো ব্যাক স্লোগান। দেখানো হয় কালো পতাকা। অন্য দিকে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার কোর্টের বৈঠকে প্রবেশ করেন অন্য গেট দিয়ে। এরপর প্রায় ৫০ মিনিট আটকে থাকার পর ছাত্রদের শর্ত মেনে শেষ পর্যন্ত গাড়ি থেকে নেমে বৈঠকে যোগ দেন আচার্য তথা রাজ্যপাল। যদিও বৈঠক কক্ষের বাইরে তৃণমূল ছাত্র সংগঠনের তরফে জমা হয়ে একটানা স্লোগানিং চলতে থাকে। বিক্ষোটে যোগ দেয় কর্মচারী সংগঠনের সদস্যরা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ