নয়াদিল্লি: ফের পিছিয়ে গেল নির্ভয়ার ফাঁসি। আবারও হতাশ হয়ে পড়লেন নির্ভয়ার মা আশা দেবী। শুক্রবার দিল্লি আদালতের তরফ থেকে ফের নির্ভয়ার ধর্ষকদের ফাঁসিতে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরই আশা দেবী বলেন, অভিযুক্তদের আইনজীবী তাঁকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছে, ‘কোনোদিনই ফাঁসি হবে না।’

আশা দেবী বলেছেন, ‘আমি চাই সবাই শুনুক, দিল্লির সরকার শুনুক, কেন্দ্রের সরকার শুনুক। আদালত আর সরকার দোষীদের কাছে মাথা নীচু করছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি দিনের পর দিন আশা হারাচ্ছি।’ শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে আদালতে বসেছিলেন আশা দেবি। ফাঁসিতে স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘যদি শাস্তি না দেওয়ারই ছিল, তাহলে কেন এতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করানো হল? কেন আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হল না?’

শনিবারই ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল নির্ভয়ার চার অভিযুক্তদের। তিনজনের প্রাণভিক্ষার আর্জি আগেই খারিজ হয়ে গিয়েছিল। একজনের বাকি ছিল। কিন্তু শুক্রবার ফের স্থগিত হয়ে গেল ধর্ষকদের ফাঁসি।

এদিন দিল্লি আদালত ফাঁসিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। পরবর্তী অর্ডারের আগে ফাঁসি না দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পিছিয়ে গেল নির্ভয়ার ধর্ষকদের ফাঁসি।

২২ জানুয়ারি ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল। তবে রাষ্ট্রপতির দোষীদের আর্জি খারিজ করার পরই ফের ফাঁসির দিন ঘোষণা করা হয়। পরে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অন্তত ১৪ দিন সময় দিতে হয় অপরাধীদের। সেই নিয়মেই ২২ তারিখ চার জনকে ফাঁসি দেওয়া যায়নি।

নির্ভয়া কাণ্ডের চার দোষী বিনয় শর্মা, মুকেশ কুমার, পবন গুপ্ত ও অক্ষয়কুমার সিংহকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল নিম্ন আদালত। তার পর হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশ বহাল রাখে। এর পর সুপ্রিম কোর্টে রায় সংশোধনের আর্জিও খারিজ হয়ে যায়।

২০১২-তে এক ভয়াবহ ঘটনায় দিল্লিতে মৃত্যু হয়েছিল এক তরুণীর। দেশের মানুষ তাঁকে নাম দিয়েছিল নির্ভয়া। ফাঁকা বাসে নৃশংস গণধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী।

বিচারের আশায় দিনের পর দিন ঘুরে বেড়াতে হয়েছে তাঁর মা আশা দেবীকে। অনেক চোখের জল ফেলেছেন তিনি। দিনের পর দিন ধর্ষণের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। দু’বছর আগেই অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। এরপর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় ফাঁসি কার্যকর হয়নি।

হাল ছাড়েননি নির্ভয়ার বাবা-মা। মেয়ের আত্মা যাতে শান্তি পায়, তার জন্য দোষীদের শাস্তি চেয়েছেন বারবার।