স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: রাত পোহালেই সরস্বতী পুজো৷শাস্ত্রীয় মতে, যবের শীষ ও খাগড়ার কলম ছাড়া বাগদেবীর আরাধনা করা সম্ভব নয়৷ অথচ তন্ন তন্ন করে বাজার ঘুরেও মিলছে না যবের শীষ ও খাগড়ার কলম৷এমনকি অতিরিক্ত গ্যাঁটের কড়ি খরচ করলেও মিলছে না৷ অগত্যা মাথায় হাত পুজো উদ্যোক্তা থেকে স্কুল পড়ুয়াদের৷এমনই হাল বালুরঘাট শহরের৷ফলে অনেকেই শেষ মুহুর্তে যবের শীষ ও খাগড়ার কলম ছাড়াই দেবী আরাধনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন৷

ফি-বারের মতো এবারও সরস্বতী পুজো উপলক্ষে জমে উঠেছে বালুরঘাট বাজার। প্রতিমা থেকে শুরু করে পঞ্চশস্য ও ফলমূলাদির জোগান বাজারে স্বাভাবিক থাকলেও খোঁজ নেই খাগড়ার কলম ও যবের শীষের৷ কিন্তু এই দুটি বস্তু ছাড়া তো বিদ্যার দেবীর আরাধনা অসম্ভব৷ ফলে শহরের ল্যাজ-মুড়ো চষে বেড়াচ্ছেন আম আদমি৷ কিন্তু কোথাও-ই খোঁজ মিলছে না যবের শীষ ও খাগড়ার কলমের৷

কেন এই হাল? স্থানীয় আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন- এজন্য দায়ী প্রধানত আবহাওয়ার পরিবর্তন৷ প্রচন্ড কুয়াশা ও ঠান্ডায় এবছর এখনও যব গাছে শীষ জন্মায়নি। পলাশ গাছেও আসেনি ফুলের কুঁড়ি৷ অন্যদিকে মাস চারেক আগের ভয়াবহ বন্যার জেরে নষ্ট হয়ে গিয়েছে অধিকাংশ খাগড়ার গাছ৷ ফলে বাজারে মিলছে না খাগড়ার কলমও।

পরিস্থিতি এমনই আকার নিয়েছে যে চড়া দাম দিয়েও মিলছে না সরস্বতীপূজার আবশ্যিক এই উপকরণগুলি। ফলে খাগড়ার কলম, যবের শীষ ও পলাশ ফুল ছাড়াই অনেকে বাগদেবীর আরাধনা সারতে বাধ্য হবেন। অন্যদিকে সরস্বতী পূজা উপলক্ষ্যে সবজি বাজারে বাঁধাকপি, ফুলকপির দামও উর্ধমুখী৷ রবিবার সকালে বালুরঘাট বাজারে বাঁধাকপি ১০-১২ টাকা, ফুলকপি ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। পনির প্রতি কেজি ৪০০টাকা কেজি। বালুরঘাট তহবাজারের দশকর্মা ব্যবসায়ী গৌতম পাল বলেন, ‘‘সরস্বতীপুজোর অন্যান্য উপাচার পাওয়া গেলেও খাগরার কলম ও যবের শীষ একদমই পাওয়া যাচ্ছে না।’’

বিশিষ্ট তন্ত্র সাধক তথা পুরোহিত বাপ্পাদিত্য বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সরস্বতীপূজা বসন্তপঞ্চমী তিথিতে হয়। বসন্তের প্রতীক হিসেবে পুজোয় পলাশ ফুল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পৌরাণিক যুগ থেকেই খাগড়া অথবা ময়ূরের পুচ্ছ দিয়ে কলম বানিয়ে লেখাপড়ার কাজ করা হতো। সেই থেকেই আজও এই পুজায় খাগড়ার কলম ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে৷

স্বভাবতই বিদ্যার দেবীর আরাধনার আবশ্যিক উপকরণে টান পড়ায় মন ভাল নেই পড়ুয়াদের৷

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও