কলকাতা: পিসির ডক্টরেড ডিগ্রি নিয়ে গত প্রায়  তিরিশ বছর ধরে জ্যোতি বসু থেকে বিমান বসুসহ অনেক নেতাই কটাক্ষ করতে ছাড়েননি৷ এবার কি তাহলে ভাইপোর এমবিএ ডিগ্রি নিয়ে আক্রমণে নামতে পারেন তৃণমূল বিরোধী বিভিন্ন দলের নেতারা? ইস্ট জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডক্টরেট করেছিলেন বলে এক সময় দাবি করা হয়েছিল৷

তখন তাঁর নামের আগে ‘ডঃ’ লিখতেও দেখা গিয়েছিল৷ কিন্তু পরে ওই ইস্ট জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আর নামের আগে ‘ডঃ’ লিখতে দেখা যায় না৷ কিন্তু এদিকে আবার দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের ফলে অরিন্দম চৌধুরির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট’ বা আইআইপিএম’কে ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউট বা বিজনেস স্কুল বলা যাবে না। ফলে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনও এমবিএ এবং বিবিএ ডিগ্রি দিতে পারবে না৷ আর এখান থেকেই এমবিএ এবং বিবিএ করেছেন মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আদালতের এমন রায়ের ফলে অরিন্দমের পাশাপাশি এ রাজ্যের ডায়মন্ডহারবারের সাংসদও যে অস্বস্তিতে পড়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷

আইআইপিএমের বিরুদ্ধে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়, যেখানে সংস্থার বিরুদ্ধে  পড়ুয়াদের ঠকানোর অভিযোগ ওঠে। এমবিএ-বিবিএ কোর্সের জন্য পড়ুয়াদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। আইআইপিএম দাবি করে, বেলজিয়ামের একটি ম্যানেজমেন্ট নিয়ামক সংস্থার কাছ থেকে এই সংস্থা অনুমোদিত।

কিন্তু আদতে দেখা যায়, সেটিও আইআইপিএম-এরই আর একটি শাখা মাত্র। অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশনের ওয়েবসাইটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে যে আইআইপিএম তাদের অনুমোদিত সংস্থা নয়। শুধু তাই নয় এর আগে ইউজিসি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির স্বীকৃতি বাতিল করে নোটিশও জারি করেছিল৷  গত শুক্রবার আদালত নির্দেশ দিয়েছে,এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে হবে, আইআইপিএম কোনও ভারতীয় উচ্চশিক্ষা নিয়ামক সংক্রান্ত সংস্থা দ্বারা অনুমোদিত নয়। যদিও অরিন্দম চৌধুরি জানিয়েছেন, তাঁরা এই নির্দেশের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আবেদন করবেন।

সারদা কাণ্ডের জেরে মুকুল রায়ের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে মমতার৷ ফলে তৃণমূলের নেতৃত্বের ব্যাটন ধীরে ধীরে তুলে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের হাতে৷ পিসির ভাইপোকে নিয়ে যখন তৃণমূল দলীয় স্তরে নেতৃত্বের অভিষেক পর্ব চলছে তখনই আদালতের এমন রায় বিতর্ক বাড়াতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনীতির কারবারীরা৷ ইতিমধ্যেই ফেসবুকেও অভিষেকের এমবিএ ডিগ্রি নিয়ে মন্তব্য পোস্ট করতে দেখা যাচ্ছে৷ সম্প্রতি মদ-গাঁজার তত্ত্ব তুলে ভাইপো যাদবপুরের প্রতিবাদকে খাটো করতে চেয়েছেন৷

ফেসবুক পোস্টে যাদবপুরের ছাত্র-আন্দোলন সম্পর্কে তিনি লিখেছিলেন, ‘মদ, গাঁজা, চরস বন্ধ। তাই কি প্রতিবাদের গন্ধ?’ অথচ তাঁর পিসির আমলে রাজ্যের কোষাগার ভরতে মদই এখন ভরসা৷ রাজ্যের আবগাররি দফতর অনলাইনে যে ভাবে  মদের উপর থেকে কর আদায় করছে তা নাকি নজিরবিহীন৷ আর তারই জন্য রাজ্যের ঝুলিতে মিলেছে ‘স্কচ অ্যাওয়ার্ড’৷ রাজ্যের আবগারি দফতর স্কচ অ্যাওয়ার্ড পাওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী ফেসবুক মারফত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন৷ অর্থাৎ মদ নিয়ে পিসি ভাইপোর ভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করা গিয়েছিল৷ কিন্তু ডিগ্রি নিয়ে তাঁরা উভয়েই উভয়ের প্রতি সহানুভূতিশীল হবেন বলে মনে করছেন বিভিন্ন মহল৷ তবে পিসির ডক্টরেট পাওয়া নিয়ে তেমন কোনও আশা না থাকলেও ভাইপোর এমবিএ নিয়ে কিছুটা আশা আপাতত রয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেছেন অনেকে৷ কারণ অরিন্দম চৌধুরি তো এই রায়ের বিরদ্ধে আদালতে আবেদন করবেন বলেছেন৷ সেক্ষেত্রে আদালতের রায় কোন দিকে যায় সেদিকেই তাকিয়ে আছেন অনেকে৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।