স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : ‘হায় রে পশ্চিমবঙ্গ , দেখাবি কত রঙ্গ’ , রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য যেন এই লাইনগুলি খাপে খাপ খেয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক হানাহানির মাঝে পড়ে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা গিয়েছে কলকাতায়। সেই মূর্তি কাণ্ড নিয়ে উত্তাল রাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় রাজনীতি। এর মাঝেই ঈশ্বরচন্দ্রের শ্বশুরবাড়িতে হল তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়া। আবার একইদিনে পশ্চিমবঙ্গের বুকেই তাঁরই নামে পার্ক উদ্বোধন করে দিল রেল।

জামাই খুন। অপঘাতে মৃত্যু, দোষের আঙুল বিজেপি তৃণমূল দুদিকেই রয়েছে। দুই দলের দলাদলিতে মারা পড়েছেন বাড়ির জামাই। এই জামাই কে? ‘মূর্তি ভাঙল কে?’ এই প্রশ্নের মতো যদি প্রশ্ন করা হয় তাহলে উত্তর মিলছে চমকে দেওয়ার মতো। খুন হওয়া জামাইয়ের নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় অর্থাৎ বিদ্যাসাগর। রাজনীতির কলে পড়ে মহাশয়ের মূর্তি ভাঙাকে অপঘাতে মৃত্যু বলে মনে করছে ক্ষীরপাইয়ের ভট্টাচার্য পরিবার অর্থাৎ বিদ্যাসাগরের শ্বশুরবাড়ির পরিবার। জামাইয়ের ‘অপঘাতে’ মৃত্যু তাই চার দিনেই হচ্ছে শ্রাদ্ধশান্তি।

বীরসিংহের ছেলে ঈশ্বরচন্দ্রের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ঘাটাল মহকুমার ক্ষীরপাইয়ের এই ভট্টাচার্য পরিবারের মেয়ের। সেই সূত্রেই জামাই শ্বশুরবাড়ির সম্পর্ক। এই মুহূর্তে মনীষী থেকে হঠাৎ সেলিব্রিটি হয়ে যাওয়া জামাইয়ের ‘অপমৃত্যুতে’ ক্ষুব্ধ ভট্টাচার্য পরিবার বলছে, ‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে খুন করা হয়েছে। খুন করেছে দুষ্কৃতীরা।’ তাঁর অপঘাতে মৃত্যু হয়েছে। তাই অরন্ধন পালন করে শোক প্রকাশ করেছে পরিবার। শাস্ত্রবিধি মেনে শুক্রবার সম্পন্ন হয়েছে পারলৌকিক ক্রিয়া। এ দিন পারলৌকিক কাজের সময় ঈশ্বরচন্দ্রের ছবির পাশে স্ত্রী দীনময়ী দেবীর ছবিও রাখা হয়। শ্রাদ্ধশান্তি শেষে ব্রাহ্মনভোজনও হয়।

অপরদিকে মূর্তি ভাঙা নিয়ে চাপানউতোরের মাঝেই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের স্মৃতি বিজড়িত এলাকায় শিশু উদ্যান ও সংগ্রহশালা তৈরি করছে পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশন। রেলের আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন মনীষীর জন্মের দু’শো বছর পূর্তিতে ঝাড়খণ্ডের অন্তর্গত করমাটাঁড় এলাকায় এই উদ্যোগ হয়েছে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। কিন্তু এমন সময়েই বিদ্যাসাগরের নামে পার্ক তৈরি করাকে কেন্দ্রীয় রাজনীতির অঙ্গ বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদরা।কারণ কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত এবং কুৎসিত রাজনীতি যে জায়গায় পৌঁছেছে তাতে কিছুই অসম্ভব নয় বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদরা।

রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, বিদ্যাসাগরকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ। এলাকাবাসীও সহযোগিতা করেছেন।শিশুদের জন্য একটি পার্ক তৈরি করে সেখানে রাখা রয়েছে বিদ্যাসাগরের একটি মূর্তি। সকাল-সন্ধ্যায় প্রবীণদের ভ্রমণের জন্য সিমেন্ট বাঁধানো রাস্তা এবং বসার জায়গা তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যাসাগরের একটি সংগ্রহশালাও গড়া হয়েছে। ছবির মাধ্যমে দেখানো হয়েছে বিদ্যাসাগরের জীবনকাহিনি। বর্ণপরিচয়ের একটি রেপ্লিকাও রাখা হয়েছে। এই কর্মকাণ্ডে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা।