নিবেদিতা দে: শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রীর ফোন আসে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছে৷ তাঁকে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করার সুসংবাদ জানান নরেন্দ্র মোদী৷ খবর রটে যায় বিভিন্ন মহলে৷ সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় শুভেচ্ছা জানানোর পালা৷ কিন্তু প্রণববাবুর এই সম্মান শুধু শুভেচ্ছাতেই থেমে থাকেনি৷ পাশাপাশি শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ দিল্লি তো বটেই রাজ্যের নেতারাও বলতে শুরু করেছেন লোকসভা ভোটের মুখে প্রণববাবুকে ভারতরত্ন দেওয়ার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বিজেপির৷

নাগপুরে আরএসএসের অনুষ্ঠানে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের যোগ দেওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি দিল্লির কংগ্রেস নেতৃত্ব৷ তবে প্রণববাবুর ভারতরত্ন পাওয়ায় শুভেচ্ছা ছাড়া অন্য বিতর্কিত মন্তব্য করতে চাননি কেউই৷ এমনকি প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা এবিষয়ে মুখু কুলুপ৷ তবে প্রণববাবুর ভারতরত্ন সম্মান পাওয়া নিয়ে বিতর্ক দানা বেধেছে এই নিয়ে তাঁর পুত্র তথা জঙ্গিপুরের কংগ্রেস বিধায়ক অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় জানান, ‘‘আমি গর্বিত, আমার পরিবার গর্বিত৷ তবে যাদের রাজনীতি করার তারা করবেই৷ এ বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই৷ ভারতবাসী সবই জানে৷’’

প্রণবাবুর ভারতরত্ন পাওয়ার খবরে দিল্লির অনেক নেতাই ট্যুইট করেছেন, নাগপুরে আরএসএস-এর সভায় যোগ দেওয়ার জন্যই তিনি এই সম্মান পেলেন৷ জেডিএস নেতা দানিশ আলি তো বিজেপিকে একপ্রকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন৷ তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘সিদ্দাগঙ্গা মঠের শ্রী শ্রী শিবকুমার স্বামীকে এই সম্মান না দেওয়ার জন্য কর্ণাটকে বিজেপিকে ফল ভুগতে হবে।’ শুধু তাই নয়, শুক্রবারই ট্যুইট করেছেন দিল্লির এক আপ নেতা৷ তাঁর ট্যুইট, ‘সঙ্ঘের সভায় এক বার যারা যায় তারাই রত্ন হয়ে যায়।’

শুধু তাই নয়, বাদ নেই বাংলাও৷ এখানকার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, একটু রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ভাবলেই বোঝা যাবে ভোটের মুখে বাংলা ও অসমের মানুষকে কেন এই সম্মান দেওয়া হল৷ তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় কে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, ‘একজন বাঙালি হিসেবে আমি গর্বিত৷’ তবে এর পেছনে যে গূঢ় রাজনৈতিক সত্য লুকিয়ে রয়েছে তাও তিনি জানান৷

কিরকম অঙ্ক থাকতে পারে এর পিছনে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমত বাংলা দখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি৷ যেকোনও উপায়ে বাংলা থেকে কিছু আসনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির৷ তাই প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ভারতরত্ন পাইয়ে দিয়ে বাঙালির আবেগকে বন্দি করতে চাইল বিজেপি৷ আবার অসমের ভূমিপুত্র তথা কিংবদন্তি গায়ক ভূপেন হাজারিকাকে ভারতরত্ন দিয়ে অসমবাসীর ক্ষোভ প্রশমনেরই চেষ্টা হল৷ কারণ অসমে নাগরিকত্ব বিলের চূড়ান্ত খসড়ায় বাঙালিদের সঙ্গে বাদ পড়েছে বহু অসমীয়াদের নামও৷ সেক্ষেত্রে কেন্দ্রের সরকারের ওপর ক্ষোভে ফুঁসছিল অসমবাসী৷ এর সঙ্গে চলছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে প্রবল বিক্ষোভ৷