স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : ধর্মতলায় অনশনকারী এসএসসির চাকরি প্রার্থীদের জট কাটতে না কাটতেই ফের নতুন গেরো। এবার মেধা তালিকায় র‍্যাঙ্কের অবনমন ঘটছে বলে অভিযোগে সরব হলেন একাংশ চাকরিপ্রার্থী। তালিকায় নামের র‍্যাঙ্কের হেরফেরের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে কমিশন। কেউ ছিলেন মেধা তালিকার ১০৩ নম্বরে, হঠাৎ করেই কয়েকদিন পর তিনি দেখলেন, ধাপ তিনেক পিছিয়ে দিয়ে তার র‍্যাঙ্ক ১০৬-নম্বর করে দেওয়া হয়েছে। যাঁর নাম ছিল ১১০, তাঁর অবনমন ঘটেছে ১১৩। এই র‌্যাঙ্ক বিভ্রাট ঘটেছে নবম ও দশম শ্রেণির ইতিহাসের শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের মে‌ধা তালিকায়। ঘটনায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলছেন তাঁরা।

অভিযোগ, গত ৩০ এপ্রিল চাকরি প্রার্থীরা এসএসসি-র ওয়েবসাইটে দেখেন, মেধা তালিকায় তাঁদের নাম যে র‌্যাঙ্কে ছিল, সেখান থেকে তিন-চার ধাপ নেমে গিয়েছে। আবার জনা তিনেক প্রার্থীর নাম চলে এসেছে তালিকার উপরের দিকে। অবনমনের কোপে পড়া প্রার্থীরাই অস্বচ্ছতার অভিযোগে সরব হয়েছেন। মেধা তালিকা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর কিভাবে কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁদের নাম কয়েক ধাপ নীচে নেমে গেল! তার কোন যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। ইতিহাসের ১২০ জন শিক্ষক পদ প্রার্থী মেধা তালিকায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলেছেন।

চৈতালি বিশ্বাস নামে নদিয়ার রানাঘাটের এক প্রার্থী জানান, মেধা তালিকায় তাঁর র‌্যাঙ্ক ছিল ১১০ নম্বরে। তিনি ৩০ এপ্রিল এসএসসি-র ওয়েবসাইট খুলে দেখেন, তাঁর র‌্যাঙ্ক তিন ধাপ পিছিয়ে গিয়ে হয়েছে ১১৩। তিনি বলেন, ‘‘আমার এক বন্ধুও প্রার্থী। সে ফোন করে বলে, রাতারাতি মেধা তালিকায় র‌্যাঙ্ক পাল্টে কয়েক জনকে উপরে তুলে আনা হয়েছে। অনেকের র‌্যাঙ্ক তিন থেকে চার ধাপ নেমে গিয়েছে।’’একই অভিযোগ সৌমেন কর্মকার নামে অপর এক প্রার্থীর। বলেন, ‘‘মেধা তালিকায় আমার র‌্যাঙ্ক ছিল ১০৩। সেটা নেমে গিয়েছে ১০৬।’’

ওই প্রার্থীরা জানান, ২০১৬ সালে তাঁরা পরীক্ষা দিয়েছিলেন। লিখিত পরীক্ষায় পাশ করার পর দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে ধাপে ধাপে তাঁরা এখন চতুর্থ কাউন্সেলিং পর্যন্ত পৌঁছেছেন। চতুর্থ দফার কাউন্সেলিং হওয়ার কথা লোকসভা ভোটের পরেই। তার আগে এইভাবে র‌্যাঙ্ক পাল্টে যাওয়ায় কমিশনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।

এসএসসি চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার জানান, যে কজন প্রার্থীর নাম মেধা তালিকায় উপরে আনা হয়েছে, তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টে তাঁদের র‌্যাঙ্ক রিভিউয়ের আবেদন জানিয়েছিলেন। রিভিউয়ে দেখা যায়, ওই প্রার্থীদের র‌্যাঙ্ক উপরের দিকে উঠে এসেছে। তিনি জানান, ‘‘গেজেটে উত্তরপত্রের পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে না লেখা থাকলেও আদালত যদি প্রার্থীদের উত্তরপত্র রিভিউ করার নির্দেশ দেয় আর সেই নির্দেশ আমরা যদি না মানি, তাহলে আদালত অবমাননার দায়ে পড়ে যাব। যা করা হয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই করা হয়েছে।’’