স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিধাননগরের মেয়র পদ নিয়ে কয়েকদিন ধরেই নাটক চরমে উঠেছিল৷ মেয়র পদ টিকিয়ে রাখতে একাধিবার বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের থেকে পরামর্শ নিতে দেখা গিয়েছে সব্যসাচী দত্তকে৷ কিন্তু যে পদকে ঘিরে এত লড়াই হঠাৎ করে সেই পদ কেন ছেড়ে দিলেন সব্যসাচী? বৃহস্পতিবার মেয়র পদে ইস্তফা দেওয়ার পর এই প্রশ্নগুলোই উঠতে শুরু করেছে৷

সব্যসাচী বিজেপিতে যাচ্ছেন-রাজ্য রাজনীতিতে এই গুঞ্জন নতুন কিছু নয়৷ ইদানিং শোনা যাচ্ছিল, মেয়র সব্যসাচী দত্তর সঙ্গে বিধাননগর পুরবোর্ডটাও বিজেপির দখলে চলে যাচ্ছে৷ খুব শীঘ্রই বেশকিছু কাউন্সিলরদের নিয়ে মুকুল রায়ের হাত ধরবেন সব্যসাচী৷ তাই তৃণমূলের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে সব্যসাচীকে বেশ ‘রিল্যাক্সড’-ই দেখা গিয়েছে৷ দু-দিন আগেও বিধাননগরের সদ্য প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তর ঘনিষ্টদের বলতে শোনা গিয়েছে, ‘অনাস্থা প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি হলে দাদাই জিতবে’৷

উল্লেখ্য, বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে যে অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়েছিল সেখানে ৩৫ জন কাউন্সিলর প্রস্তাবে সই করেছেন বলে জানিয়েছিলেন বিধাননগর পুরসভার চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তী । সব্যসাচীকে বাদ দিয়ে বাকি তিনজন সেই প্রস্তাবে সই করেননি৷

এদিকে, গতকাল অর্থাৎ বুধবারই সব্যসাচী দত্তকে সাময়িক স্বস্তি দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। তাঁর বিরুদ্ধে কাউন্সিলরদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বিধাননগরের পুর কমিশনার যে বৈঠক ডেকেছিলেন, সেই বৈঠকের নোটিসকে বুধবার খারিজ করে দেন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। নোটিসের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সব্যসাচী দত্তই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। হাইকোর্ট জানায় নোটিস অবৈধ।

আদালতে নৈতিক জয়ের পরও সব্যসাচী কেন পদ আঁকড়ে বসে রইলেন না তা নিয়ে অনেকেই কৌতুহলী৷ পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন , যাঁদের উপর ভরসা করে বিজেপির মেয়র হওয়ার কথা ভেবেছিলেন সব্যসাচী হয়তো তাঁরাই শেষ মুহূর্তে তাঁকে ডুবিয়েছেন৷ তেমন সুবিধে করতে না পেরে বাধ্য হয়েই হয়তো পদত্যাগ করলেন তিনি৷

এদিন ইস্তফা দেওয়ার সময় সব্যসাচী দত্ত বলেন, অসৎ ব্যবসায়ী এবং স্বার্থান্বেষীদের কাজে এবং রাজারহাট এলাকায় জলা ভরাট-সহ নানা অসাধু কাজে বাধা দেওয়ার পরও রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোনও সাহায্য তিনি পাননি৷