শঙ্কর দাস, বালুরঘাট: আমন্ত্রণ পেয়েও নাট্য আকাদেমির উৎসবে গেলেন না জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত বিশিষ্ঠ নাট্যব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়। বুধবার থেকে নাটকের শহর বলে খ্যাত বালুরঘাটে শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির ঊনবিংশ তম নাট্যমেলা। চলবে আগামী ১ মার্চ অবধি। স্থানীয় নাট্যমন্দিরে আয়োজিত পাঁচ দিন ব্যাপী এই নাট্যমেলায় কলকাতার খ্যাতনামা বিভিন্ন গোষ্ঠীর মোট ছয়টি নাটক মঞ্চ হচ্ছে। সম্মিলীত ভাবে মেলার শুভ সূচনা করেন প্রাক্তনমন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তী ডিআইজি প্রসূন বন্দোপাধ্যায় জেলাশাসক নিখিল নির্মল পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত সহ অন্যান্য বিশিষ্ঠ জনেরা।

নাট্যমেলার আমন্ত্রণপত্র নিয়ে শুরু হয়েছে নানান অভিযোগ। নাটকের শহর নামে খ্যাত বালুরঘাটে নাটকের মেলা আয়োজিত হলেও স্থানীয় নাট্যগোষ্ঠী গুলিকে তাতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। ঘটনায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ভারত সরকারের সংগীত নাটক একাডেমি পুরস্কারে সম্মানীত হরিমাধব মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্য নাট্যব্যক্তিত্বরা। আমন্ত্রণপত্র পেয়েও নাট্যমেলা প্রত্যাখ্যান করেছেন হরিমাধব।

স্বাধীনতার আগে থেকেই নাট্যচর্চার অন্যতম পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত বালুরঘাট। এই শহরেই বেড়ে উঠে বাংলা একাঙ্ক নাটকের জন্ম দিয়েছিলেন নাট্যকার মন্মথ রায়। এই শহরেরই বাসিন্দা হরিমাধব মুখোপাধ্যায়। স্বাধীনতার আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে থাকা এই বালুরঘাটের রয়েছে নাট্যমন্দির ত্রিতীর্থ ও নাট্যতীর্থ তূণীর সমমন সমবেত নাট্যকর্মী বালুরঘাট-নাট্যকর্মী সৃজন ও মাস্ক সহ আরও একাধিক নাট্য গোষ্ঠী। কম বেশি সকলেই নানান প্রতিকূলতার মধ্যেও নিয়মিত নাট্যচর্চা ও নতুন নতুন নাটক পরিবেশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ, সরকারি টাকায় আয়োজিত বুধবার থেকে শুরু নাটকের মেলায় দুই-একটি বাদে অধিকাংশ দলকেই আমন্ত্রণলিপি দেওয়া হয়নি। এমনকি নাট্য আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয় ভাব যুক্ত অভিনেতাদের লাইনে দাঁড়িয়ে নাটকের প্রবেশপত্র সংগ্রহের কথা উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রায় একই অভিযোগ করেছেন, শহরের বিশিষ্ঠ দুই নাট্যব্যক্তিত্ব জিষ্ণু নিয়োগী ও অধ্যাপক ভবেন্দু ভট্টাচার্যও।

সংগীত নাটক একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হরিমাধব মুখোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে, তাঁকে আয়োজকদের তরফে আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়েছে। তার জন্য তিনি একদিকে যেমন আনন্দিত। তেমনি তার নিজস্ব নাটকের দল ত্রিতীর্থ সহ অন্যান্য গোষ্ঠী গুলিকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ভীষণ ভাবে দুঃখিত। যেকারণেই নাটক দেখতে তিনি গেলেন না। নাট্য মেলার আয়োজক যেখানে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমি। সেখানে শহরের নাটকের দলগুলিকে অন্তত একটি করে হলেও আমন্ত্রণপত্র দিলে ভালো হতো।এমনটা না হলেই ভালো হতো বলেও তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

এব্যাপারে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক শান্তনু চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে, বালুরঘাটে নাটকের সাধারণ দর্শক প্রচুর রয়েছেন। যাঁদের মধ্যে বয়স্ক ও বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে কলকাতায় গিয়ে ভালো নাটক দেখা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আকাদেমির তরফে নাট্যমেলার মূল উদ্দেশ্যই হলো কলকাতার প্রথিতযশা দল ও অভিনেতারা যাতে জেলার দর্শকদের সামনে তাঁদের নাটককে তুলে ধরতে পারেন। এই উদ্দেশ্য একশ শতাংশ সফল বলে নাট্যমেলার প্রথম দিনেই প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে নাট্য আকাদেমির সদস্য অমিত সাহা নাটকের দলগুলিকে আমন্ত্রণ না জানানো প্রসঙ্গে বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভাবে ভিত্তিহীন। সকলকেই এই নাট্যমেলায় সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি একথাও জানান যে, শুরুর দিন থেকেই নাটক ঘিরে সাধারণ দর্শকদের উৎসাহ তুঙ্গে।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব