ভাঙড়: মসৃণ উপায়ে দখল হয়েছে পঞ্চায়েত। অনেক কেন্দ্রে প্রার্থী দতে পারেনি বিরোধী শিবির। বহু জায়গায় বিরোধীদের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লোকসভার আর তা সম্ভব হচ্ছে না বলে আক্ষেপ করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত প্রধান মোদাস্বর শেখ।

আরও পড়ুন- সরকারি প্রকল্পের চেক দিয়ে মিমির জন্য ভোট চাইছেন পঞ্চায়েত প্রধান

সোমবার দুপুরের দিকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পরে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে ভাঙড়ের ভোগালী দুই নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মোদাস্বর শেখকে সরকারি প্রকল্পের চেক বিলি করতে দেখা গিয়েছে। কৃষকদের সেই চেক বিলি করার পাশাপাশি তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “আগামী যে লোকসভা নির্বাচন আসছে, প্রত্যেকের যেন মাথায় থাকে, চেকটা দিচ্ছি আমরা। ভোটটাও আমাদের দিতে হবে।”

আরও পড়ুন- বিকাশ বসুর মৃত্যুবার্ষিকীতে মঞ্জুর পাশে দীনেশ, অনুপস্থিত সুনীল

ওই ভিডিও নিয়ে দনভর তপ্ত ছিল বঙ্গ রাজনীতি। সেই ভিডিও-তেই পঞ্চায়েত প্রধান মোদাস্বর শেখকে বলতে সোনা গিয়েছে, ‘‘আগের বার প্রার্থী প্রত্যাহার করিয়ে আমরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চায়েত দখল করে নিয়েছি। লোকসভা বলে সেটা সম্ভব নয়।’’ সুযোগ থাকলে সেটাও তিনি করে ফেলতেন তা অবশ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন ভাঙড়ের ভোগালী দুই নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান।

আরও পড়ুন- ঢাক বাজিয়ে আগাম বিজয় উৎসব করে মনোনয়ন জমা বিজেপি প্রার্থীর

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যের প্রায় এক তৃতীয়াংশ আসনে কোনও বিরোধী প্রার্থী ছিল না। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সেই সব আসনে জয় হাসিল করেছিল শাসক তৃণমূল। যা নিয়ে বিতর্ক কিছু কম হয়নি। জাতীয় স্তরেও ছড়িয়েছিল সেই বিতর্কের রেশ। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে তা আর সম্ভব নয়। এই অবস্থায় বিরোধীদের দমিয়ে রেখে জেতার ছক অবশ্য করে ফেলেছেন মোদাস্বর শেখ। তিনি বলেছেন, “কোনও ভাবে কোনও বুথে যেন বিরোধী এজেন্ট না থাকে সেটা আমাদের নজরে রাখতে হবে।”

পঞ্চায়েত ভটের সব থেকে বিতর্কিত ছবি। ফাইল থেকে

আরও পড়ুন- দীনেশ ত্রিবেদীর হাত ধরে তৃণমূলে যোগ প্রাক্তন বিজেপি নেত্রীর

যাদবপুর কেন্দ্রের বিজেপি রার্থী অনুপম হাজরা ওই চেক বিলি এবং পঞ্চায়েত প্রধানের বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। নির্বাচন কমিশনের কাছে এই ঘটনার অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় বিডিও কৌশিক কুমার মাইতি বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। রাজ্যের অতিরিক্ত নির্বাচনী আধিকারিক সঞ্জয় বসু বলেছেন, ‘‘আমাদের মিডিয়া ওয়াচের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে এসেছে। জেলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে।’’