বিশাখা পাল: রোমাঞ্চে মোড়া রেখার ব্যক্তিজীবন৷ পরপর সম্পর্কের ভাঙা গড়া, সন্তানসম্ভবা হয়ে যাওয়া, বিতর্ক… সবমিলিয়ে শ্রীদেবীর জীবনই একটা সিনেমা৷ বলিউডের এই ডিভাকে নিয়ে চর্চার শেষ নেই৷ কিন্তু তার অন্তরালে, নিঃসাড়ে নিজের ব্যক্তিজীবনকে একান্ত ব্যক্তিগত রেখে এগিয়ে যাচ্ছিলেন শ্রীদেবী৷ মিঠুনের সঙ্গে সম্পর্ক, বনি কাপুরের সঙ্গে ভাইবোন পাতানো, তারপর বিয়ে৷ কী নেই শ্রীদেবীর জীবনের দুই মলাটের মধ্যে৷

বলিউডে অমিতাভ-রেখার সিলসিলা অজানা নয়৷ তাঁদের জুটি যে কখনও ভেঙে যাবে, তা কেউ কখনও ভাবেনি৷ কিন্তু অমিতাভ-রেখার মাঝে এসে গেলেন জয়া৷ ছিটকে গেলেন রেখা৷ কিন্তু তিনিও রেখা৷ হারেন, তবু মচকান না৷ এরপর বিনোদ মেহেরার সঙ্গে তাঁর নাম জড়ায়৷ শোনা যায়, তাঁরা নাকি বিয়ে করেছিলেন৷ কিন্তু সমস্যা হয় নববধূকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর৷ বিনোদের মা নাকি রেখাতে রীতিমতো মেরেছিলেন৷ আর মা কা লাডলা তখনই বধূকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন৷ এরপরও বিতর্ক রেখার পিছু ছাড়েনি৷ এখনও রেখাকে জড়িয়ে থেকেছে অনেক বিতর্ক৷

কিন্তু শ্রীদেবী কি বিতর্কের বাইরে ? তাঁর ব্যক্তিজীবন অনেকটা রেখার মতোই অশান্তিতে ভরপুর৷

শ্রীদেবী রূপে ছিলেন অনন্যা আর গুণেরও ঘাটতি নেই৷ হাজার হোক তিনি রূপোলি পর্দার সুপারস্টার৷ দক্ষিণী রূপবতীর মন মজেছিল বাঙালি হিরোতে৷ মিঠুনের তীরে ভিড়েছিল তাঁর তরী৷ মিঠুনে মজেছিলেন মিস হাওয়া হাওয়াইতে৷ মোট কথা প্রেমের আগুন দুই তরফেই লেগেছিল৷

এদিকে মিঠুন তখন বিবাহিত৷ স্ত্রী যোগীতাবালি ও সন্তান মিমোকে নিয়ে ভরা সংসার৷ এমন সময় সেখানে এন্ট্রি নেন শ্রীদেবী৷ গোপনে মিঠুন ও শ্রীদেবীর প্রেমলীলা শুরু হয়৷ বিষয়টি নিয়ে দেখা দেয় বিতর্ক৷ এমনকি যোগীতা বালিও ক্ষুব্ধ হয়ে যান৷ এদিকে শ্রীদেবীকে হাতছাড়া করতে নারাজ মিঠুন৷ ফলে বিয়েটা হয়েছিল গোপনে৷ তারপরেই মধুচন্দ্রিমায় চলে যান মিয়া-বিবি৷

হানিমুন থেকে ফিরে শ্রীদেবী বেঁকে বসেন৷ সাফ জানিয়ে দেন যোগীতার সংসার ছেড়ে বেরি আসতে হবে মিঠুনকে৷ বাঙালি হিরো দাদার তখন শিরে সংক্রান্তি৷ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত না নিলে সম্পর্ক ত্যাগের হুমকি দেন শ্রীদেবী৷ এই নিয়েই শুরু হয়েছিল ভাঙন৷

পরিস্থিতি সত্যিই খুব নিষ্ঠুর৷ রেখার মতোই বিতর্ক শুরু হয় শ্রীদেবীকে ঘিরে৷ মিঠুন পর্বের মাঝেই শ্রীদেবীর জীবনে হাজির হন বনি কাপুর৷ তিনিও বিবাহিত৷ বনির স্ত্রী মোনার সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব ছিল শ্রীদেবীর৷ বন্ধুত্বের খাতিরেই বনির বাড়িতে যাতায়াত ছিল৷ আর মোনাও কোনওদিন আপত্তি করেননি৷ করার প্রশ্নই নেই৷ বন্ধু বলে কথা৷ কিন্তু মোনা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি তাঁর পিঠ পিছে তাঁরই স্বামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন তাঁর বান্ধবী শ্রীদেবী৷ যখন জানলেন, তখন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা৷ স্বামী বনিকে কব্জা করে নিয়েছেন শ্রীদেবী৷

এদিকে মিঠুনের কানে পৌঁছয় শ্রীদেবীর কাণ্ডকারখানা৷ স্বাভাবিকভাবেই তিনি মেনে নিতে পারেননি৷ মিঠুনের একপ্রকার জোরাজুরিতেই বনিকে প্রায় বাধ্য হয়েই রাখি বাঁধেন শ্রীদেবী৷ কিন্তু শাক দিয়ে আর কতদিন মাছ ঢাকা যায়? এরই মধ্যে শ্রীদেবী গর্ভবতী হয়ে পড়েন৷

বলিউডের মিস হাওয়া হাওয়াই প্রেগন্যান্ট? হাওয়ার থেকেও দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে খবর৷ হতবাক হয়ে যায় বলিউড৷ কিন্তু এই নিয়ে কোনও লুকোচুরি করেননি শ্রীদেবী বা বনি৷ পেটে সন্তান৷ এমন অবস্থায় কী আর খবর লুকিয়ে রাখা যায়? কিন্তু এই সময় কোনও একটা সিদ্ধান্তে তো আসতে হয়৷ এদিকে বনির স্ত্রী মোনা তখনও জীবিত৷ ডিভোর্সও হয়নি৷ ফলে ১৯৯৬ সালে মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেন তাঁরা৷

বৈবাহিক জীবন ভালোই কাটছিল৷ দুই নৌকায় পা দিয়ে বেশ চলছিলেন বনি৷ কিন্তু কতদিন এভাবে চলবে? মোনাকেও ছাড়তে পারছিলেন না বনি৷ একদিন প্রথমা স্ত্রীর সঙ্গে পিকনিকে গিয়েছিলেন তিনি৷ সঙ্গে ছিল ছেলে অর্জুন ও মেয়ে অংশুলা৷ মোনার সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠতা মেনে নিতে পারছিলেন না শ্রীদেবী৷ শোনা যায়, এই কারণে তিনি বনি কাপুরেরে সঙ্গে জোর ঝামেলা করেছিলেন৷ দুর্ভাগ্যবশত তা এক পড়শির কানে চলে গিয়েছিল৷ তিনিই ফাঁস করে দিয়েছিলেন বলিউডের অন্যতম হিট কাপলের দাম্পত্য কলহের কথা৷ তিনি এও বলেছিলেন, বনি তাঁর ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন৷ কিন্তু শ্রীদেবী নাকি কোনওদিনই তা বোঝেননি৷ আবার উলটোদিকে বনি কাপুরেরও শ্রীদেবীর অনুভূতি বোঝা উচিত ছিল বলে অনেকে মনে করেন৷ এক তো শ্রী ছিলেন তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী৷ তার উপর এক সন্তানের মা৷

শোনা যায়, মোনার মা নাকি শ্রীদেবীর উপর শারীরিক অত্যাচার করেন বলে অভিযোগ৷ তারপর থেকে বনির প্রথম পক্ষের সঙ্গে বাক্যালাপ বন্ধ করে দেন শ্রীদেবী৷ বনিকে বলেন তিনি যেন প্রথম পক্ষের সঙ্গে সমস্ত সংস্রব ত্যাগ করেন৷ শ্রীয়ের কথা মতো বনি ছেড়ে দিয়েছিলেন মোনাকে৷ প্রথম পক্ষের সন্তানদের সঙ্গে এখনও তাঁর সম্পর্ক ভালো নয়৷

যা রটে, তার কিছুটা সত্য বটে৷ শ্রীদেবী-বনির এই তরজা প্রকাশ্যে না আসলেও অর্জুন কাপুর একবার বলেছিলেন, শ্রীদেবী তাঁর মা হতে পারেন৷ কিন্তু তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়৷ শ্রীদেবী তাঁর বাবার স্ত্রী৷ এর বেশি কোনও পরিচয় তাঁর কাছে শ্রীদেবীর নেই৷