স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: ওদের প্রত্যেকেই মহাত্মা গান্ধীর ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ। স্বচ্ছতায় সেবা মূলমন্ত্রে বিশ্বাসী ওরা। পড়াশোনার পাশাপাশি দূষণমুক্ত ভারতবর্ষ গড়ে তোলা অন্যতম চ্যালেঞ্জ ওদের কাছে। তাই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলের ঐতিহাসিক ব্রিজের উপর দূষণ রুখতে তুলির টানে অসংখ্য চিত্রকলা ফুটিয়ে তুলছে অন্বেষা, অঙ্কিতা, সায়ন্তনীরা।

ব্রিজ মানেই আর পাঁচটা মানুষের মনের মধ্যে ধারণা রয়েছে পানের পিক, খাবারের প্যাকেট, নোংরা দাগ ইত্যাদি নানাবিধ। কিন্তু, এই ধারণা পাল্টে দিয়ে ব্রিজকে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়েছে মহিষাদলের এই খুদে কচিকাঁচারা।

মহিষাদল রাজ হাইস্কুল ও মহিষাদল রাজ ইংলিশ স্কুলের মধ্যদিয়ে মহিষাদল বাজারে প্রবেশ করেছে এই ঐতিহাসিক ব্রিজ। তৎকালীন পরাধীন ভারতে মহিষাদলের রাজা লছমন প্রসাদ গর্গের আমলে, ১৮৫১ সালে দেওয়ান রাম নারায়ণ গিরির উদ্যোগে তৈরি করা হয় এই ঐতিহাসিক ব্রিজ। ব্রিজের তলা দিয়ে বয়ে গিয়েছে হিজলী টাইডাল ক‍্যানেল। আর এই হিজলী টাইডাল ক্যানেলও মহিষাদলের ইতিহাসের পাতায় ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। ১৯৪৫ সালে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী এই ব্রিজের নীচ দিয়ে বয়ে যাওয়া হিজলী টাইডাল ক্যানেলের ওপর দিয়ে নৌকা করে গিয়েছিলেন। এছাড়াও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তাঁর ওড়িশা যাত্রার সময় এই ব্রিজের নীচ দিয়ে রওনা হয়েছিলেন। তাই অসংখ্য ইতিহাসের সাক্ষী এই ঐতিহাসিক ব্রিজ।

মহিষাদল রাজ পরিবারের তৈরি এই ব্রীজ বর্তমানে বার্ধক্য দশায় পরিণত হলেও, তা দিয়ে আজও হাজার হাজার মানুষ পারাপার হন। কিন্তু একটা সময় পানের পিক ও নোংরা জঞ্জালে ভরপুর ছিল ব্রিজের দেওয়াল সহ আশপাশের অংশ। আর এই দেখেই ব্রীজের দেওয়ালে এখন দূষণ রোধের বার্তা দিতে কচিকাঁচারা তাদের নরম হাতে তুলির টানে ভরিয়ে তুলছে অসংখ্য চিত্রকলা। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এলাকার প্রায় কুড়িজন কচিকাঁচা জোর কদমে চালিয়ে যাচ্ছে এই চিত্রকলার কাজ। তাদের এই উদ্যোগে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় সংস্থা বিশ্বকলা কেন্দ্র ও বুলেটস। কচিকাঁচাদের অঙ্কন করা ঐসকল চিত্রকলা সারাবছর জাতে একইরকমভাবে থাকে তার যাবতীয় দায়ভার নিয়েছে ওই দুই সংস্থা। জানা গিয়েছে, প্রতিদিন বিকেল বেলায় ব্রিজের দেয়ালজুড়ে আঁকতে দেখা যাবে এই কচিকাঁচাদের।

অন্বেষা দোবে, সায়ন্তনী জানা, অঙ্কিতা বাগ, মনোজ দাসের মতো কচিকাঁচারা জানায়, “গান্ধীজী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই ব্রিজের নিচ দিয়ে গিয়েছেন। তাই আমরা চাই এই ব্রিজ যাতে কোনও রকম ভাবে নোংরা না হয়ে থাকে। তাই আমরা এই ধরনের অঙ্কন ব্রিজের দেওয়ালজুড়ে ফুটিয়ে তুলছি।”

এই বিষয়ে বিশ্বকলা কেন্দ্রের সম্পাদক বিশ্বনাথ গোস্বামী বলেন, “এলাকারই কচিকাঁচাদের এইরূপ উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। আমরা এই চিত্রকলাগুলি রক্ষার দায়ভার নিচ্ছি।”