চন্ডীগড়: ধর্ষণের দায়ে দোষী হিসেবে সব্যস্ত হয়ে আপাততে জেলেই দিন কাটাচ্ছে গুরমিত রাম রহিম সিং৷  কিন্তু তাকে ঘিরে বিতর্ক চলছেই৷ ডেরা সচ্চা সৌদার সদর দফতর সিরসা থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র৷ যা হরিয়ানা সরকারের কপালে ফের চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে৷ হরিয়ানা সরকারের বিরুদ্ধে উঠল আদালত অবমাননার অভিযোগ৷

ডেরা সাচ্চা সৌদার প্রধান রাম রহিমের গ্রেফতার হওয়ার পরই জ্বলে উঠেছিল সিরসা৷ উদ্ধার হয়েছিল একাধিক অস্ত্রশস্ত্র৷ হরিয়ানা হাইকোর্টের বিচারাধীন বেঞ্চ একটি রায় পেশ করে৷ আদালতের সেই রায়ে বলা হয়েছিল, পাঞ্জাব এবং হরিয়ানাতে অবস্থিত সমস্ত ডেরাগুলিতে নিয়মিতভাবে তল্লাশি চালাতে হবে৷ কিন্তু হরিয়ানা সরকার আদালতের সেই রায়কে একেবারেই অগ্রাহ্য করে গিয়েছে৷ রাম রহিমের ডেরা থেকে বিপুল পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের কারণেই ২০১৪সালের সেই রায় আবারও প্রকাশ্যে এল৷ যার জেরে মুখ পুড়ল হরিয়ানা সরকারের৷

ডেরা অনুগামীরাই জানিয়েছিলেন, ডেরার ভিতরে রয়েছে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র৷ এমনকি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও জানিয়েছে, বেআইনীভাবে ডেরার ভিতরেই চলত অস্ত্রশস্ত্র চালানোর বিশেষ প্রশিক্ষণ৷ স্বঘোষিত বাবা রাম রহিমের ১০ বছরের জেলের সাজা ঘোষণার পরই প্রকাশ্যে আসে এই বিষয়টি৷

১) ২০০২ সাল, এপ্রিল- এই বছর এপ্রিলে একটি বেনামী চিঠি আসে পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্টের বিচারপতির কাছে, আর এই চিঠিতেই ফাঁস হয়, সিরসাতে বাবার ডেরায় মহিলা ভক্তদের ওপর যৌন নির্যাতনের মতো চাঞ্চল্যকর বিষয়টি৷ প্রসঙ্গত, ১৯৯৯-২০০১-এ দুই সাধ্বীর ওপর যৌন উৎপীড়ন করে এই স্বঘোষিত ধর্মগুরু৷
২) মে- চিঠি পাওয়ার ঠিক পরের মাসেই, অর্থাৎ, মে তে চিঠির ভিত্তিতে সিরসার জেলা এবং দায়রা বিচারককে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়৷
৩) সেপ্টেম্বর- চার মাস ধরে তদন্ত চলার পর বিষয়টি সম্পর্কে জেনে এবং তার গুরুত্ব বুঝেই মামলাটি সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয় সিরসা জেলা ও দায়রা আদালত৷

৪) ডিসেম্বর- সেই বছরই ডিসেম্বরে রাম রহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়৷
৫) ২০০৭, জুলাই- রাম রহিমের বিরুদ্ধে আম্বালা আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিবিআই৷
৬) ২০০৮- সিবিআই-এর বিশেষ আদালত রাম রহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের চার্জশিট গঠন করে৷
৭) ২০১১- এই বছর এপ্রিল মাসে বিশেষ সিবিআই আদালত আম্বালা থেকে পাঁচকুলায় স্থানান্তরিত করা হয়৷