কলকাতা: ভারতীয় মশলা মানে, তাতে হলুদ মাস্ট৷ হলুদ ছাড়া রান্নাঘর অচল৷ সৌন্দর্য থেকে ধর্মানুষ্ঠান, সবেতেই হলুদের আসন বাঁধা৷ কিন্তু জানেন কী, এই হলুদ সারিয়ে দিতে পারে আপনার ভুলে যাওয়ার রোগ? এমনকী আপনার মন ভালো রাখতেও সাহায্য করে৷

হলুদ-দুধ খাওয়ার প্রচলন ভারতে অনেকদিন ধরেই রয়েছে৷ নেহাত নিয়ম আছে বলে নয়, হলুদের গুণাগুণ সেই প্রাচীন কালেই আবিষ্কার হয়ে গিয়েছে৷ অভিজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হলুদের কারণেই এখন গুরুজনদের অ্যালঝাইমারের প্রবণতা কম৷ কারণ তাঁরা আগে প্রায় নিয়মিত হলুদ খেতেন৷ তবে এখনকার মতো বাজারের প্যাকেট করা হলুদ খাবারে দিয়ে নয়, কাঁচা হলুদ৷ জ্ঞান সম্বন্ধীয় যেকোনও কিছুই হলুদ সেবনে বৃদ্ধি পায়৷

লস অ্যাঞ্জেলসের ক্যার্লিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গেরি স্মল জানিয়েছেন, হলুদ মাথা গরম কমাতে সাহায্য করে৷ আর সেই কারণেই অ্যালঝাইমার ও ডিপ্রেশন কমে যায়৷ বয়স্কদের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কিত একটি আমেরিকান জার্নাল ৫০ থেকে ৯০ বছর বয়স্ক ৪০ জনকে নিয়ে গবেষণা চালিয়েছিল৷ তার স্টাডি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে৷

সেখানে বলা হয়েছে, ১৮ মাস ধরে দিন দুবার করে তাদের কয়েকজনকে প্ল্যাসবো ও কয়েকজনকে ৯০ মিলিগ্রাম সার্কামিন দেওয়া হয়৷ ছমাস পর পর তাদের পরীক্ষা করা হয়৷ রক্তে সার্কামিনের লেভেল ১৮ মাস পরে পরীক্ষা করা হয়৷ দেখা যায়, যারা সার্কামিন নিয়েছিল, তাদের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়৷ কিন্তু যারা প্ল্যাসবো নিয়েছিল, তাদের অতটাও হয়নি৷ স্মল জানিয়েছেন, এই ফলাফল প্রমাণ করে সার্কামিন বছরের পর বছর ধরে স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে সক্ষম৷

  • আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞ আশুতোষ গৌতম জানিয়েছেন, হলুদ দিয়ে দুধ খেলে শুধু স্মৃতিশক্তি বাড়ে,তাই নয়৷ এর আরও অনেক গুণ রয়েছে৷

১) রাতে হলুদ দিয়ে দুধ খেলে শরীর ভালো থাকে ও ভালো ঘুম হয়৷ হলুদের সঙ্গে দুধ মিশলে এটি অ্যান্টি-এজিংটনিক হিসেবে কাজ করে৷
২) কাটা ঘা শুকোতেও হলুদ দিয়ে দুধ ভালো কাজ দেয়৷ শারীরিক অসুস্থতার পর অনেকেই হলুদ দিয়ে দুধ খায়৷ অসুস্থতা বা অস্ত্রোপচারের পর অনেকে হলুদ দিয়ে দুধ খাওয়ার কথা বলে৷
৩) হলুদ অ্যান্টিসেপটিক৷ সেই সঙ্গে জ্বালা কমাতে, মন ভালো রাখতে টনিকের কাজ করে হলুদ৷
৪) হাড়ের জয়েন্ট ঠিক রাখতেও সাহায্য করে হলুদ দিয়ে দুধ৷ বাতের ক্ষেত্রেও ভালো কাজ দেয় হলুদ৷
৫) ত্বকের ইনফেকশন বা অ্যালার্জি সারাতেও কাজে লাগে হলুদ৷