লখনউ: মোদীকে সরিয়ে কেন্দ্রের ক্ষমতা দখল এবং দেশ জুড়ে গেরুয়া উত্থান ঠেকানোর লক্ষ্য নিয়ে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করেছিল কংগ্রেস। যেখানে মারাত্মকভাবে ভরাডুবি হয়েছে হাত শিবিরের। আমেঠি কেন্দ্র থেকে হেরে গিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।

এই অবস্থায় আগামী বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করার দাবি উঠল কংগ্রেসের অন্দরে। ২০২২ সালের শুরুর দিকে ওই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৭ সালে বিপুল জনাদেশ নিয়ে দেশের সবথেকে বড় রাজ্যের ক্ষমতা দখল করেছিল বিজেপি। যোগী আদিত্যনাথ ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদ সামাল দিচ্ছেন।

ভারতের রাজনীতিতে বিশেষ গুরত্ব পেয়ে থাকে উত্তরপ্রদেশ রাজ্য। ওই রাজ্যের বিধানসভা এবং লোকসভা আসন সংখ্যা সবথেকে বেশি। ৮০ আসনের লোকসভা আসনের মধ্যে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ওই রাজ্য থেকে কংগ্রেস কেবলমাত্র একটি আসন পেয়েছে। রায়বরেলি কেন্দ্র থেকে জিতেছেন ইউপিএ চেয়রাপার্সন সোনিয়া গান্ধী। বৃহস্পতিবার মা সোনিয়ার সঙ্গে রেয়বরেলিতে হাজির ছিলেন প্রিয়াঞ্জা গান্ধী।

চলতি বছরেই উত্তরপ্রদেশের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে নিযুক্ত করেছে কংগ্রেস। যদিও ফলাফল ভালো হয়নি। উত্তরপ্রদেশ সহ সমগ্র দেশেই ফুটেছে পদ্ম। দ্বিতীয় দফায় কেন্দ্রে শাসনভার গিয়েছে মোদীর দখলে। এই অবস্থায় শাপমুক্তি ঘটাতে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেই প্রধান মুখ হিসেবে দেখতে চাইছেন ওই রাজ্যের কংগ্রেস কর্মীরা।

রাজ্যসভার সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় সিং জানিয়েছেন যে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে প্রিয়াঞ্জা গান্ধীর নাম ঘোষণা করা হোক। ২০২২ সালে পার্টি কর্মীরা তাঁর নেতৃত্বে লড়াই করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। গত লোকসভা নির্বাচনে জালৌন কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী বৃজলাল খাবরি বলেছেন, “অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করেছি। ২০২২ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফল করতে হলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর উচিত আমাদের নেতৃত্ব দেওয়া।”

একই সুর শোনা গিয়েছে অপর কংগ্রেস নেতা রাকেষ সচনের গলাতেও। তিনি বলেছেন, “ভোট আসবে-যাবে কিন্তু কংগ্রেস থাকবে। কংগ্রেস শুধু একটা রাজনৈতিক দল নয়। একটা লক্ষ্য। সেই কারণে আমাদের পরিশ্রম করতে হবে এবং সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করতে হবে। আমরা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কাছে অনুরোধ করব ২০২২ সালে আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার জন্য।”

বৃহস্পতিবার রায়বরেলির মিছিলের পর যথেষ্ট হতাশ লাগছিল প্রিয়াঙ্কাকে৷ সেখানেই তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে কর্মীদের সবাই যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন না৷ কারা কারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তা খুঁজে বের করবে দল৷ প্রয়োজনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ প্রিয়াঙ্কার দাবি তিনি এদিন কোনও ভাষণ দিতে আসেননি৷ সত্যিটা বলতে এসেছেন৷ আর সত্যিটা হল রায়বরেলির জয় এসেছে সোনিয়া গান্ধী ও এখানকার মানুষের হাত ধরে৷