নয়াদিল্লি: রাজধানীর পরিস্থতি নিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের দ্বারস্থ হচ্ছে কংগ্রেস। রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দেবে কংগ্রেস প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার সকালেই দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতর থেকে শুরু হবে মিছিল। রাষ্ট্রপতি ভবনে মিছিল করে যাবেন কংগ্রেস নেতারা। মিছিলে থাকতে পারেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

সিএএ সমর্থনকারী ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে দিল্লিতে লাফিয়ে বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দিল্লির সংঘর্ষে ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলিছে। দুশোরও বেশি মানুষ সংঘর্ষে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন কংগ্রেস। বুধবারই পরিস্থিতির বিশ্লেষণে বৈঠকে বসেছিল কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি।

সেই বৈঠকে অমিত শাহ ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। দিল্লিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন সনিয়া।

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতর থেকে শুরু হবে মিছিল। রাজধানীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার আবেদন জানানো হবে কংগ্রেসের তরফে। রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত যাবে কংগ্রেসের মিছিল। মিছিলে থাকবেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। মিছিল শেষে একটি প্রতিনিধি দল গিয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করবেন। দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করবেন কংগ্রেসের নেতারা। রাষ্ট্রপতিকে কংগ্রেসের তরফে একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হবে।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবারও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল উত্তর-পূর্ব দিল্লির অশান্ত এলাকা ঘুরে দেখবেন। যদিও বুধবার রাতের পর এখন নতুন করে আর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। হাসপাতালে থাকা আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা চলছে।

ইতিমধ্যেই আহত ও নিহতদের পরিবার পিছু ক্ষতিপূরণের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। নিহতদের ২ লক্ষ টাকা সরকারি ক্ষতিপূরণ ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জও দিল্লির সংঘর্ষ নিয়ে মত প্রকাশ করেছে।

দিল্লির যে এলাকাগুলিতে অশান্তি ছড়িয়েছে সেই এলাকার বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল৷ এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সচেষ্ট হতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বাইরে থেকে কেউ ঢুকে যাতে দিল্লির পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে না পারে সেব্যাপারে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন কেজরিওয়াল।