স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যে কংগ্রেসের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভরসা তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যথায় কোনোভাবেই হাতের মধ্যে থাকবে বাংলার হাতের সংগঠন। এমনই দাবি করেছেন রাজ্যের দুই কংগ্রেস সাংসদ মৌসম নূর এবং আবু হাসেম খান চৌধুরী।

রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের পক্ষে সওয়াল করেছেন সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। একই সুর শোনা গিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রের গলাতেও। এরই মাঝে অন্য সুর শোনা গেল রাজ্যের দুই কংগ্রেস সাংসদের গলায়। যাদের মধ্যে একজন আবার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পোরখাওয়া।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জোট গড়েছিল বাম-কংগ্রেস। যদিও সেই জোট বিশেষ সফল হয়নি। বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তৃণমূল কংগ্রেস। একই সঙ্গে জোটের অনেক জয়ী প্রার্থী নাম লিখিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসে। পরবর্তী সময়ে জোট নিয়েও অনেক জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিধানসভা বির্বাচনের পরে রাজ্যের অনেক উপনির্বাচনে আলাদাভাবে লড়াই করেছে বাম এবং কংগ্রেস। একই ছবি দেখা গিয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচনেও।

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে ফের শুরু হয়েছে জোট নিয়ে জল্পনা। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাস্ত করতে ফের জোটের কথা ভাবতে শুরু করেছে বাম-কংগ্রেস নেতৃত্ব। এই মুহূর্তে আবার ঘাস ফুলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পদ্ম দোসর হয়েছে। তৃণমূল-কংগ্রেস-বিজেপি সকলেই আবার বিজেপি বিরোধী। জাতীয় স্তরে সবাই বিজেপিকে হারানোর আহ্বান জানিয়েছে।

জোটের সমীকরণ যেমনই হোক না কেন বাংলার মাটিতে তৃণমূলকে ছাড়া কংগ্রেস যে কোনোভাবেই বিশেষ কিছু করতে পারবে না তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সাংসদ মৌসম নূর এবং আবু হাসেম খান চৌধুরী। প্রাক্তন রেলমন্ত্রী গনি খান চৌধুরীর পরিবারের এই দুই সাংসদ বিষয়টি কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকেও জানিয়েছেন। রাহুলের কাছে তাঁদের অনুরোধ ছিল, “তৃণমূলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করলে কংগ্রেস জিতবে। না হলে জেতা আসনগুলিও কংগ্রেস হারাবে।”

পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যে কোনও জোট ছিল না। সেই সময় দলের লাইন অগ্রাহ্য করে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করেছিলেন মৌসম নুর। মালদহের ত্রিশঙ্কু আসনগুলিতেও তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রায় ১৪৬টি পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন করেন তিনি৷ সেই সময় তার তৃণমূলে যোগ নিয়ে জল্পনাও তৈরি হয়। এই বিষয়ে তিনি বলেছেন, “কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিতে চাই না। কিন্তু বিজেপিকে সরাতে গেলে কংগ্রেসের মমতাকে প্রয়োজন।”

সিপিএম-কংগ্রেস জোট সম্পর্কে মত কী? গনিখানের ভাগ্নী, উত্তর মালদহের সংসদ সদস্য মৌসম বেনজির নূর বলেছেন, “যে কোনও নির্বাচনই খুব কঠিন৷ যদি তৃণমূলের সঙ্গে জোট না হয়, তাহলে কিছু করার নেই৷ হাইকম্যান্ড যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই শেষ কথা৷ যদি বলে, সিপিএমের সঙ্গে জোট করে লড়তে হবে তাহলে সেটাই লড়ব৷ আমাদের ভয়ের কিছু নেই৷”

গনিখানের ভাই তথা দক্ষিণ মালদহের এমপি আবু হাসেম খান চৌধুরী (ডালু) অবশ্য এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই জোট চান৷ তাঁর বক্তব্য, এখানে সিপিএমের কোনও ভোট নেই৷ সিপিএমকে এখানে লোকে চায় না৷ সোমেন মিত্র যেটা বলেছেন সেটা তাঁর নিজের বক্তব্য৷ আমরা প্রয়োজনে দিল্লিতে কথা বলব৷