স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: নাগরিক সংশোধনী বিলকে(ক্যাব) কেন্দ্র করে জ্বলছে উত্তর-পূর্বের তিন রাজ্য। পরিস্থিতি এতটাই জোরালো হয়েছে যে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী। জারি রয়েছে কার্ফু। তা সত্ত্বেও দমানো যাচ্ছেনা ‘ক্যাব’ বিরোধীদের। এবার অসম সহ গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ক্যাব বিরোধিতার ঢেউ আছড়ে পড়ল পশ্চিমবঙ্গেও।

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন জেলা গুলিতে ক্যাবের বিরোধিতায় পথে নামছে, বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি। বৃহস্পতিবার ক্যাবের বিরোধিতায় অন্য অন্য রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি এই বিলের বিরোধিতায় সরব হতে দেখা গেল কংগ্রেসকেও। এদিন নোয়াপাড়ায় ক্যাবের প্রতিলিপি পুড়িয়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার কংগ্রেস কর্মীরা।

এতদিন যা ছিল নেতাদের হুংকার, বুধবার সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাস হয়ে বৃহস্পতিবার তা পরিণত হয় আইনে। ফলে এই আইন দেশকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করছে বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। যার ফলে এই বিলের বিরোধিতায় জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলছে, বিক্ষোভ আন্দোলন। শুধু তাই নয় কার্যত এখনও আগুন জ্বলছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আসাম এবং ত্রিপুরায়। যার রেশ ছড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও।

ক্যাবের বিরোধীতা করে উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত, ইছাপুরে এবার আন্দোলনে নামল জাতীয় কংগ্রেস। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ক্যাব বিলের বিরোধীতা করে, দিনের ব্যস্ত সময়ে ইছাপুর ঘোষপাড়া রোডের কণ্ঠাধার মোড় অবরোধ করা হয় ৩০ মিনিট। জানা গিয়েছে, এনআরসি ও ক্যাব এর বিরুদ্ধে প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তার উপরে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস সমর্থকরা ।

এরপর কংগ্রেস কর্মীরা সংসদে পাশ হওয়া সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিলের প্রতিলিপি পুড়িয়ে দেয়।

জাতীয় কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য জুড়ে এই ইস্যুতে আন্দোলন শুরু করেছেন কংগ্রেস কর্মীরা । নোয়াপাড়ার কংগ্রেস নেতা অশোক ভট্টাচার্য্যের দাবী, দেশকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের সরকার । তা তারা কোনও সময় হতে দেবে না, তারা সেই কারণেই আন্দোলনে নেমেছেন। এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকারে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।