গোয়া: মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছেন গেরুয়া শিবির৷ অন্যান্য দলের সমর্থন নিয়ে গোয়ায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি৷ যা কাঁটার মতো বিঁধছে কংগ্রেসের৷ ক্ষমতা দখলে মরিয়া হাত শিবির৷ এবার তাই মোদী-শাহ জুটির ‘কর্ণাটক ফরমুলা’কেই তরুপের তাস হিসাবে ব্যবহার করে সৈকত রাজ্যের দখল নিতে চায় কংগ্রেস৷

গোয়া কংগ্রেসের সভাপতি গিরিশ চোদনকারের দাবি, তাদের সঙ্গে বিজেপি জোটের পাঁচ বিধায়কের কথা হয়েছে৷ খুব তাড়াকাড়ি তারা জোটের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবেন৷ ফলে গোয়ার সরকারের দখল নেবে কংগ্রেস৷

তবে পুরো বিষয়টিই পরিকল্পনা করে করতে চাইছে হাত শিবির৷ তাই তাড়াহুরো নয়৷ সামনেই রয়েছে রাজ্যের শিরোদা ও মানড্রেম বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন৷ আপাতত ওই দুটি কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল দেখেই এগোতে চাইছে রাহুল গান্ধীর গোয়ার সৈনিকরা৷

মাস কয়েক আগেই কর্ণাটকে বিধানসভা ভোটের ফলাফলে আসন সংখ্যার নিরীখে দল হিসাবে এগিয়ে থাকলেও ম্যাজিক ফিগার পায়নি পদ্ম শিবির৷ কিন্তু রাজ্যপালের নির্দেশে সরকার গঠন করে ফেলে তারা৷ পরে আদালতের নির্দেশ দেয় আস্থা ভোটের৷ কিন্তু তার আগেই রণে ভঙ্গ দেয় ইয়েদুরাপ্পা৷

গোয়ার পরিস্থিতিও অনেকটা একই৷ মেলেনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা৷ তবে দিল্লির নেতাদের আঙ্গুলি হেলনে বিজেপির সঙ্গে জোটে যায় স্থানীয় এমজিপি ও জিএফপি৷ নির্দলদেরও সমর্থন পায় মনোহর পারিকর৷ কংগ্রেসের চরম বিরোধীতাতেও কাজ হয়নি৷ ফলে আক্ষেপ রয়েই গিয়েছে৷ হাতের রাশ আদায়ে লোকসভার আগেই তাই ঝাঁপাতে চাইছে কংগ্রেস৷

গোয়া প্রদেশ নেতৃত্ব মনে করছে এর ফলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে৷ প্রথমত, লোকসবার আগেই পের তুলে ধরা যাবে বিজেপি সরকারের অগনতন্ত্রিক দিকটা৷ দ্বিতীয়ত, ভোটের আগে গোয়ার ক্ষমতা বদল হলে তা চাপ বাড়াবে বিজেপির৷ মনোবল বাড়বে হাত শিবিরের নেতা কর্মীদের৷ যার ফায়দা মিলবে লোকসভায়৷

এর আগেই অবশ্য, গোয়ায় সরকার গঠনের দাবি জানায় কংগ্রেস। শুধু তাই নয় বিজেপি এবং অন্য শাসক দলগুলির বিরুদ্ধে ঠিক ভাবে সরকার পরিচালনা না করার অভিযোগও তোলে তারা। সরকার গঠন করতে চেয়ে রাজ্যপাল মৃদুলা সিনহাকে চিঠিও দেয় হাত শিবির। এবার কংগ্রেসের কৌশলে দেশের পশ্চিমের ছোট রাজ্যটির ক্ষমতা বদল হয় কিনা সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল৷