শ্রীনগর: নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রশ্ন তুলে বেশিরভাগ বিরোধী নেতাকে গৃহবন্দি করে রেখেছে কেন্দ্রের মোদী সরকার। কাশ্মীর এখন তাই বিরোধীশূণ্য প্রায়। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থায় কোনও নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়, দাবি তুলে কাশ্মীরের ব্লক ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের ভোট বয়কট করল কংগ্রেস।

৩৭০ ধারা বাতিলের পর রাজ্যের প্রায় ৪০০ রাজনৈতিক নেতাকে হয় আটক করা হয় নয়তো গৃহবন্দি করা হয়। তাঁদের মধ্যে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লা, ফারুক আবদুল্লাও রয়েছেন। গত প্রায় দুমাস ধরে কাশ্মীর উপত্যকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। নেই ইন্টারনেট পরিষেবাও।

এক সাংবাদিক সম্মেলনে জম্মু কাশ্মীরের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিএ মীর জানান, নির্বাচন কমিশনের এই ইস্যুতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কাশ্মীরের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা গৃহবন্দি। এই অবস্থায় কীভাবে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন সম্ভব, প্রশ্ন তুলেছেন মীর। সব রাজনৈতিক দলগুলিকে ডেকে আলোচনায় বসা উচিত কমিশনের, এমনই দাবি কংগ্রেসের।

এদিন সম্মেলনে মীর জানিয়ে দেন ব্লক ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের ভোটে অংশগ্রহণ করবে না হাত শিবির। কারণ এভাবে নির্বাচন হলে, তা সংবিধান বিরোধী হবে এবং একচ্ছত্র জয় হবে গেরুয়া শিবিরের। কাশ্মীরের কংগ্রেসের নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখার পাশাপাশি, তাদের নূন্যতম নিরাপত্তাও দেওয়া হচ্ছে না বলে মীরের। উল্লেখ্য ২৪শে অক্টোবর জম্মু কাশ্মীরে বিডিসি বা ব্লক ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের নির্বাচন। ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর এই প্রথম নির্বাচন হচ্ছে কাশ্মীরে।

রাজ্যের প্রায় ৪০০ জন রাজনৈতিক নেতার মধ্যে গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ৮৩ বছরের ফারুখ আবদুল্লা, তাঁর ছেলে ওমর আবদুল্লা ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রধান মেহবুবা মুফতি। এদিকে প্রায় দু’মাস পর মুক্তি পান জম্মুর নেতারা। জম্মুতে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে যাঁদের মুক্তি দেওয়া হয় সেই রাজনৈতিক নেতারা হলেন দেবেন্দর সিংহ রানা, রমন ভাল্লা, হর্ষদেব সিংহ, চৌধুরীলাল সিংহ, ভিকার রসুল, জাভেদ রানা, সুরজিৎ সিংহ স্লাথিয়া ও সাজ্জাদ আহমেদ কিচলু।

তার আগে জম্মু কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের উপদেষ্টা জানান, গত ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে গৃহবন্দি কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতারা। তাদের মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে ভাবনা চিন্তা করছে প্রশাসন। এক এক করে মুক্তি পাবেন তাঁরা। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই জম্মুর বেশ কয়েকজন নেতাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এবার পালা কাশ্মীরের। এখানকার নেতারাও মুক্তি পাবেন। তবে এক এক করে।