স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেয়ে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় প্রদেশ কংগ্রেস৷ পুরভোট ও বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করতে চাইছে তারা৷ দলের ক্ষয় রুখতে বিজেপির হিন্দু ও তৃণমূলের মুসলিম-এই দুটি ভোটব্যাংকেই টার্গেট করে নতুন স্ট্র্যাটেজি নিচ্ছে বিধানভবনের কর্তারা৷

এবার লোকসভা ভোটে বাংলায় মেরুকরণ হয়েছে৷ হিন্দুদের বড় অংশের ভোট গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে এবং সংখ্যালঘুদের বড় অংশের ভোট গিয়েছে তৃণমূলের ঝুলিতে৷ সিপিএম-কংগ্রেস তো বটেই এমনকি বহু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরও এমনই দাবি৷এই দুই ভোট ব্যাংকই এবার লোকসভায় বাম- কংগ্রেসের থেকে মুখ ফিরিয়েছে৷ যার জেরে একধাক্কায় বিজেপির ভোট ১০.১৬% থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০.২৩% ৷ কংগ্রেস এবং বামেদের ভোট কমে ৫.৬১% এবং ৭.৫% হয়েছে৷ এদিকে সামনের বছরই পুরসভা নির্বাচন৷ তারপরের বছরই এরাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা৷লোকসভার ধাক্কা সামলে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বও এবার নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে৷ খুব শীঘ্রই তারা কর্মসমিতির বৈঠকে বসছে৷

পড়ুন: মাসের শেষ দিন ভাগ্য সহায় কিনা বলবে ‘আজকের রাশিফল’

বিধানভবন সূত্রের খবর, প্রাথমিক আলোচনায় ঠিক হয়েছে বাংলায় মেরুকরণের রাজনীতির প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমে গণআন্দোলন করবে৷এছাড়াও হিন্দু ও মুসলিম-উভয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলিকে এবার বড় করে পালন করার কথার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তারা৷ সামনেই ঈদ রয়েছে৷ সেই উৎসব পালন নিয়ে যেমন তারা পরিকল্পনা করছে সেরকমই বড় করে রাখী উৎসবও পালন করতে চাইছে রাজ্যের কংগ্রেস৷এককথায় সমস্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলিতে যাতে বিজেপি ও তৃণমূল প্রচারের সব আলো টেনে নিতে না পারে তার বন্দোবস্ত করছে তারা৷ এরজন্য আলাদা টিম তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে৷

কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, “বাংলায় হিন্দু-মুসলিমের রাজনীতি আমদানি করেছে তৃণমূল-বিজেপি৷ এসব ধর্মীয় ভেদাভেদ বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে যায়না৷ জাত-পাত ও সম্প্রদায় নিয়ে কংগ্রেস রাজনীতি করে না। আমাদের বিশ্বাস যাঁরা কংগ্রেসের থেকে মুখ ফিরিয়েছেন তাঁরা ঠিক একদিন নিজেদের ভুল বুঝবেন৷”

ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদের কান্দি বিধানসভার উপনির্বাচনে জয়ী দলের প্রার্থী সফিউল আলম ওরফে বনু খানকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মুখ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে কংগ্রেস৷সফিউলের আঁকা অনুকূল ঠাকুরের ছবিই কান্দির সৎসঙ্গ আশ্রমে প্রতিদিন দু’বেলা পুজিত হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতেই বনু খানের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হচ্ছে। তবে দলের দূর্বল সংগঠন নিয়ে সমস্ত পরিকল্পনা কতদূর বাস্তবায়ন করা যাবে সে প্রশ্নও প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরে উঠছে৷