স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তৃতীয় দফার ভোটে বাসিন্দা বৃদ্ধ টিয়ারুল শেখের খুনের ঘটনার তিনদিন পরেও অধরা বাকি চার অভিযুক্ত। অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে প্রদেশ কংগ্রেস৷শনিবার নির্বাচন কমিশনেও সেকথা জানাতে পারে তারা৷

তৃতীয় দফায় ভোটের দিনে বালিগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে খুন হন ওই বৃদ্ধ। খুনের ঘটনার পরেই মৃতকে কংগ্রেস কর্মী বলে দাবি করেন মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী আবু হেনা। শাসকদলের লোকজন টিয়ারুলকে খুন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও মৃতের পরিবার ও গ্রামবাসীদের একাংশ জানান, মৃত বৃদ্ধ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

আরও পড়ুন: এনআরসি নিয়ে এবার অমিত শাহর আক্রমণের মুখে রাহুল, মায়াবতী অখিলেশ

টিয়ারুল শেখের মৃত্যুর সময়ই তাঁর বড় ছেলে মহতাব শেখ এবং সম্পর্কে ভাইপো তৃণমূল কর্মী তাহাজুল শেখ জখম হন। বর্তমানে তাহাজুল মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওইদিনের ঘটনায় মৃতের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার দিন রাতেই রানিতলা থানার পুলিস খুনের অভিযুক্ত সাতজনের মধ্য তিনজনকে গ্রেফতার করে।

অন্যদিকে, তাহাজুলের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতেও পুলিস পরে তিনজনকে গ্রেফতার করে। লালবাগ মহকুমা আদালতের নির্দেশে লালু শেখের পাঁচদিনের পুলিস হেফাজত এবং বাকি দুজনের ১৪ দিন জেল হেফাজত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় লালু শেখ জানিয়েছে, দিন দশেক আগে বাড়ির সীমানায় গরু যাওয়া নিয়ে তাদের পরিবারের সঙ্গে মৃতের পরিবারের ঝগড়া হয়। এনিয়েদুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। দুই পরিবার দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। ভোটের দিন টিয়ারুল শেখকে একা পেয়েই হামলা চালায়।

আরও পড়ুন: অশান্তি পাকালে গণবিক্ষোভের মুখে পড়তে হবে তৃণমূলকে, হুঁশিয়ারি অধীরের

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, বাকি চার অভিযুক্ত এখনও গ্রামেই ঘোরাঘুরি করছে। শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকায় পুলিশ তাদের ধরছে না। যদিও মৃতের পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস প্রার্থী আবু হেনা বলেন, আমরা হলফ করে বলতে পারি সঠিক তদন্ত হচ্ছে না৷ প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে পুলিশ ধৃতকে দিয়ে জোর করে এসব বলাচ্ছে। প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, বাকি অভিযুক্তদের এখনও কেন ধরা হচ্ছে না৷ শাসক দলের কুকর্মকে আড়াল করতেই কি পুলিশ তাদের ধরছে না৷ শনিবার নির্বাচন কমিশনেও সেকথা জানাতে পারেন তিনি৷