লখনউ: শিয়রে লোকসভা৷ ঘর গোছানো শুরু করেছে কংগ্রেস৷ এই পরিস্থিতিতে আজ নিজের সংসদীয় ক্ষেত্র আমেঠি যাচ্ছেন কংগ্রেস সভপতি রাহুল গান্ধী৷ একাধিক দলীয় কর্মসূচীতে আংশ নেবেন তিনি৷

আরও পড়ুন: লোকসভায় তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থন করবে মোর্চা

দেশের সব থেকে বেশি লোকসভা আসন বিশিষ্ট্য রাজ্য উত্তরপ্রদেশ৷ গো-বলয়ের এই রাজ্যে যে রাজনৈতিক দল যত বেশি আসন জিতবে তারাই পৌঁছে যাবে দিল্লির মসনদের কাছাকাছি৷ গেরুয়া শিবির হোক, বা বিজেপি বিরোধী গোষ্ঠী৷ রাজধানীর দখলে সবারই নজর উত্তরপ্রদেশ৷

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মোদী প্রায় অস্তমিত৷ শক্ত হচ্ছে হাতের জোড়৷ বাড়ছে বিজেপি বিরোধী জোটের গুরুত্ব৷ এই প্রেক্ষাপটে বিজেপিকে হারাতে কংগ্রেসের উপর ভরসা না করেই উত্তরপ্রদেশে জোট বেঁধেছেন ‘বুয়া-বাবুয়া’৷ তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, ভবিষ্যতের বার্তা দিয়ে মায়া-অখিলেশ জুটি কংগ্রেসের গড় রায়বেরেলি ও আমেঠি আসনে প্রার্থী দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে৷ ফলে এই দুই কেন্দ্রে ভোট হবে মেরুকৃত৷ পদ্ম বনাম হাতের লড়াই৷

বাস্তবদা বুঝে এসপি-বিএসপি জোট নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেনি কোনও কংগ্রেস নেতাই৷ মায়াবতী, অখিলেশ দুজনেই জানিয়েছেন কংগ্রেসকে সঙ্গে নিলে উচ্চবর্ণের ভোট পাওয়া দুষ্কর৷ ফায়দা মিলবে গেরুয়া শিবিরের৷ ফলে রাহুল এন্ড কোম্প্যানির লড়াই এখন কৌশলের৷ যোগীরাজ্যের সব আসনে প্রার্থী দিয়ে বিজেপির হিন্দু উচ্চবর্ণের ভোট কাটতে মরিয়া তারা৷ এতে আখেড়ে লাভ হবে বিরোধী জোট শিবিরের বলেই মনে করছে কংগ্রেস৷

লড়াই কঠীন৷ তাই প্রস্তুতিতেকে জোড় দিতে চান কংগ্রেস সভাপতি৷ গো-বলয়ের তিন রাজ্যে জয়ের পর সেই রেশ ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর তিনি৷ নিজের লোকসভা কেন্দ্রে সংগঠন মজবুত করতে তিন দিনেক সফরে এদিন আমেঠি যাবেন রাহুল৷ তিনটি জায়গায় সভা করতে পারেন কংগ্রেস সভাপতি৷ কথা বলবেন দলীয় নেতা, কর্মীদের সঙ্গে৷ আমেঠি থেকেই লোকসভার প্রচারের ধুয়ো তুলতে দেখা যেতে পারে তাঁতে৷

আরও পড়ুন: নেতাজীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লক্ষ্মীরতন শুক্লার ‘মিউজিক ভিডিও’

আগামী শুক্রবার রাহুলের আমেঠি সফরের শেষ দিনেই সেখানে করামসূচী রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানির৷ ফলে রাজনৈতিক বাদানুবাদে জমে উঠতে পারে আমেঠির মাটি৷ মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা৷ এর আগে নিজের লোকসভা কেন্দ্র রায়বেরেলিতে যাওয়ার কথা ছিল ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীর৷ তবে দলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় অজ্ঞাত কারণে তিনি যেতে পারবেন না৷ তারপর রাহুল গান্ধীর সফর৷ সেখানে দলীয় নেতা কর্মীদের কী বার্তা দেন কংগ্রেস সভাপতি সেদিকেই নজরল রাজনৈতিক মহলের৷