মুম্বই: নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে চূড়ান্ত নাটকের সৃষ্টি তৈরি হয়েছিল। যা এখনও চলছে। নির্বাচনের সময়ে বিজেপি এবং শিবসেনা জোট বেঁধে লড়াই করলেও নির্বাচনের পরে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারের দখল নিয়ে দুই দলের মধ্যে বিরোধ বেঁধেছিল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় যায় যে, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে হয়েছিল এই রাজ্যে। তবে জল্পনা আগামী ২২ নভেম্বর এই রাজ্যতে গঠিত হতে পারে নতুন সরকার।

নির্বাচনের পরে সরকার গঠন নিয়ে বিরোধ হওয়াতে বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করে এনসিপি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধে শিবসেনা। যদিও শুরুতে শিব সেনার সঙ্গে জোট নিয়ে কড়া মনোভাব দেখিয়েছিল দুই দলই। কিন্তু পরবর্তীকালে সুর নরম করেছিল এনসিপি। এই রাজ্যে সরকার গঠন করতে তিন দলের জোট সরকারের উপরেই নির্ভর করতে হবে বলে আগেই মনে করেছিলেন কিছু রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এনসিপি শিবসেনার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার ভাগ করার দাবি মেনে নিয়েছে। তবে একটা বিষয় নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে, যে কোন দল প্রথম আড়াই বছরের জন্য ওই চেয়ারে বসবেন। এখনও পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে প্রথম সুযোগ পেতে পারেন এনসিপি। আর সেক্ষেত্রে চেয়ার যেতে পারে এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ারের কাছে বা তার মেয়ে সুপ্রিয়া শুলের কাছে। আর সেক্ষেত্রে শিবসেনা এনসিপি এবং কংগ্রেস জোট করার পরে প্রথম মুখ্যমন্ত্রী পাবে মারাঠাবাসী।প্রাথমিকভাবে কংগ্রেস শিবসেনাকে সমর্থন না জানানোর কথা বললেও পরবর্তীকালে তারা তাঁদের মত বদলায়।

কংগ্রেস নেতা পৃথ্বীরাজ চৌহান বুধবার জানিয়েছেন এই রাজ্যতে খুব দ্রুত স্থায়ী সরকার গড়ার ব্যাপারে তার দল যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত কার ভাগে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার পড়বে তার দিকে তাকিয়ে তিনদলই।

আরও পড়ুন – “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটব্যাঙ্ক হারানোর ভয়ে রেগে যাচ্ছেন” বিস্ফোরক ওয়াইসির দলের নেতা

সাংবাদিক সম্মেলনে এনসিপি নেতা নবাব মালিক এবং চৌহান জানিয়েছেন এই রাজ্যতে সরকার গঠন করার ব্যাপারে কংগ্রেস এবং এনসিপির মধ্যে সদর্থক আলোচনা হয়েছে। আর খুব তাড়াতাড়ি তার ফল সকলের সামনে আসবে।

এনসিপি নেতা মালিক জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করার ক্ষেত্রে তার দল এবং কংগ্রেস প্রস্তুত হয়েই রয়েছে। কিন্তু এটা তখনই সম্ভব হবে যখন এনসিপি, শিবসেনা, এবং কংগ্রেস একসঙ্গে এগিয়ে আসবে। তারা যদি একসঙ্গে হাত বাড়ায় তাহলেই এটি সম্ভব হবে। তিনি জানিয়েছেন তিন দলই তাদের সবটুকু দিয়ে এই রাজ্যতে একটা স্থায়ী সরকার গঠন করার চেষ্টা করবে।

নির্বাচনে মহারাষ্ট্রের ২৮৮ টি আসনে বিজেপি এবং শিবসেনা জোট বেঁধে লড়াই করেছিল। আর তার ফলে নির্বাচনী ফল্প্রকাশের পরে দেখা গিয়েছিল বিজেপি ১০৫ এবং শিবসেনা ৫৬ টি আসন পেয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। কিন্তু তারপর থেকে সরকার গঠন করা নিয়ে দুই দলের বিরোধ চরমে ওঠে। উদ্ধব ঠাকরের আড়াই বছরের মুখ্যমন্ত্রীর বিষয়টি মানতে চায়নি বিজেপি সরকার। আর তারপরেই ধীরে ধীরে বিজেপির বিরুদ্ধে চলে যায় শিবসেনা। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। নির্বাচনে কংগ্রেস পেয়েছিল ৪৪ টি আসন এবং এনসিপি পেয়েছিল ৫৪ টি আসন। নিজেদের দাবিতে অটল থেকে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে এরপর শিবসেনা এনসিপি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে।