নয়াদিল্লি: গো-বলয়ের ধাক্কা সামলে ঘর গোছাতে শুরু করেছে বিজেপি৷ অন্যদিকে, বিজেপি বিরোধীদের সার্বিক জোট এখনও পোক্ত নয়৷ তৃণমূল সুপ্রিমোর মতো অনেকেই চাইছেন সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আঞ্চলিক দলগুলির ক্ষমতার বিন্যাসে জোট বাঁধুক কংগ্রেস৷ এই পরিস্থিতিতে নিজেদের মতো করে ঘর গোছানোর কাজে নেমে পড়ল ন্যাশানাল কংগ্রেস পার্টি৷ এবারও মহারাষ্ট্রে ‘হাতে’র সঙ্গে জোট বাঁধলেন শরদ পাওয়ার৷

রাজধানীতে এদিন আসন্ন লোকসভা ভোট উপলক্ষ্যে আসনরফা নিয়ে বৈঠক করে কংগ্রেস ও এনসিপি নেতৃত্ব৷ সেখানেই স্থির হয়, রাজ্যের মোট ৪৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৪০টি আসনের রফা প্রায় চূড়ান্ত৷ বাকি আটটি আসন আপাতত রেখে দেওয়া হয়েছে৷ বিজেপি বিরোধী জোটে কেউ সামিল হতে চাইলে ওই আসনগুলি তাদের দেওয়া হবে লড়ার জন্য৷

বৈঠক শেষে এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার বলেন, ‘বিজেপিকে পরাস্ত করতে মহারাষ্ট্রে এবার একযোগে লড়বে কংগ্রেস ও এনসিপি৷ ৪০টির আসন রফা হয়ে গিয়েছে৷ এই জোটের সঙ্গে রয়েছে ওয়ার্কার পার্টি৷ পরে বাকি আটটি আসনের রফাও চূড়ান্ত হয়ে যাবে৷’

২০১৪ সালে মোদী ঝড়ে উড়ে গিয়েছিল বিরোধী শিবির৷ মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস ও এনসিপি জোট বেঁধে লড়েও আসন পায় মাত্র ৬টি৷ ৪৮টির মধ্যে কংগ্রেস ২৭টি ও এনসিপি প্রতিদ্বন্দিন্দ্বিতা করে ২১টি আসনে৷ বিজেপি জিতেছিল ২৩টি আসন৷ শিবসেনা জয় পায় ১৮ আসনে৷ একটি আসনে জেতে স্বাভামানি পক্ষ৷

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, ২০১৪ সালের মোদী ম্যাজিক অস্তমিত৷ গো-বলয় সহ বেশ কয়েকটি ভোটেই তার প্রমাণ মিলেছে৷ শিবসেনার সঙ্গেও বিজেপির সম্পর্ক তেমন নয়৷ এই সুযোগকে কাজে লাগাতে মরিয়া শরোদ পাওয়ার৷ বৃহত্তর বিরোধী জোট গঠনের অপেক্ষায় না থেকে তাই আপাতত নিজের রাজ্যে কংগ্রেসকে নিয়ে মানুষের মনে ভরসা দিতে চাইছেন এনসিপি নেতা৷ গেরুয়া বিরোধী প্রচারও শুরু করতে চাইছেন দ্রুত৷

বিহারের মহাজোটের পর এবার মহারাষ্ট্রেও দানা বাঁধল বিরোধী জোট৷ প্রশ্নের মুখে কী বিজেপি বিরোধী সার্বিক বিরোধী জোট?