স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যে আলাদা কৃষি আইন চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে চিঠি দিলেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রের আইনের ফলে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের প্রক্রিয়া এবং কৃষিপন্য বিপণনের কাঠামো ধাক্কা খাবে। কর্পোরেটের দাপট বাড়বে। প্রদীপ ভট্টাচার্যর এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে সিপিএম।

কৃষি বিলের প্রতিবাদে সরব কংগ্রেস সহ দেশের বিরোধী দলগুলি। সংবিধানের ২৫৪(২) অনুচ্ছেদ মেনে ইতিমধ্যেই কংগ্রেস-শাসিত রাজ্যগুলিকে আলাদা আইন তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। কারণ, সংবিধান ও যুক্তরাষ্ট্রীয় ধারায় কৃষি শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় এক্তিয়ারের বিষয় নয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া চিঠিতে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ।

কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যর প্রস্তাব সমর্থন করে বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তীর মতে, ‘‘বিশেষ অধিবেশন ডেকে কেন্দ্রের আইনের প্রতিবাদে সর্বদল প্রস্তাবের দাবি আমরা আগেই জানিয়েছি। তার সঙ্গেই আলাদা আইনও রাজ্যে হোক।’’

বলে রাখি, কৃষি বিলের বিরুদ্ধে সর্বসম্মত প্রস্তাব নেওয়ার জন্য কদিন আগেই বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনের দাবি তুলেছে বাম এবং কংগ্রেস। এই দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী এবং বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের আব্দুল মান্নান।

বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের অভিযোগ, কৃষি বিলে কৃষকস্বার্থকে কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের স্বার্থে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে, অত্যাবশ্যক পণ্য আইন সংশোধনের মধ্য দিয়ে মানুষের খাদ্যের অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং শ্রম আইন সংস্কারের মধ্য দিয়ে শ্রমিকস্বার্থকে বিপন্ন করা হয়েছে।

সুজন চক্রবর্তী এবং আব্দুল মান্নান বলেছেন, ‘‘কেন্দ্রের ওই আইনগুলির বিরুদ্ধে আমাদের প্রস্তাব তৈরি আছে। আইনগুলি যে সব ক্ষেত্রের, সেগুলি রাজ্য অথবা যুগ্ম তালিকাভুক্ত। কেন্দ্রের অন্যায় আইন রাজ্যে আমরা প্রয়োগ করব না, এই মর্মে প্রস্তাব নিতে চাই। রাজ্য প্রস্তাব আনলে এবং তার মর্মার্থ এক থাকলে আমরা তাতেও সম্মত। আশা করব, রাজ্য আমাদের প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার সাহস দেখাবে।’’

তাঁদের দাবি, রাজ্যসভায় সংখ্যালঘু হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র যেভাবে বিল সেখানে পাশ করিয়েছে তা অসাংবিধানিক। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কৃষি বিল নিয়ে তৃণমূলের আন্দোলনের আন্তরিকতাকে জনগণের সামনে পরীক্ষায় ফেলার জন্যই তাদের এই কৌশল নিয়েছে বাম-কংগ্রেস। তবে রাজ্যে পৃথক কৃষি আইন প্রসঙ্গে তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, “রাজ্য সরকার সমস্ত বিষয়ই বিবেচনায় রেখেছে।”

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।