বেঙ্গালুরু: কর্ণাটকের রাজনীতিতে ফের জল্পনা। কংগ্রেসের উপর প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী। এমনকি পদত্যাগের ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।

কংগ্রেসের বিধায়করা বলছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া তাঁদের নেতা। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই ক্ষুব্ধ হন কুমারস্বামী। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস সীমা অতিক্রম করছে। কংগ্রেসের উচিৎ বিধায়কদের নিয়ন্ত্রণ করা।’ সোমবার তিনি আরও বলেন, যদি এমনটাই চলতে থাকে তাহলে আমি পদত্যাগ করতে তৈরি।

উপমুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বর বলেন, ‘সেরা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সিদ্ধারামাইয়া। উনি আমাদের নেতা। এতে দোষের কী আছে?’ সাম্প্রতিককালে এমটিবি নাগরাজও একই কথা বলেন। তিনিও বলেন, সিদ্ধারামাইয়া আজও আমাদের নেতা। এমনকি কেউ কেউ কুমারস্বামীর কাজকর্ম নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

গত জুনে কর্ণাটক লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরোলে দেখা যায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ৯ আসন দূরে ছিল বিজেপি। ২২৪ আসনের কর্ণাটক বিধানসভায় বিজেপি পায় ১০৪টি আসন। কংগ্রেস পায় ৮০টি আসন, জনতা দল সেকুলার পায় ৪০টি। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে বিজেপিকে সরকার গড়তে ডাকেন রাজ্যপাল। কিন্তু সংখ্যা জোগাড় করতে না-পারায় আস্থাভোটের আগেই পদত্যাগ করেন মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা। এর পর কংগ্রেসের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী হন জেডিএস নেতা এইচডি কুমারস্বামী।

এদিকে, আঞ্চলিক নেতাদের নিয়ে যে ফেডেরাল ফ্রন্ট গঠনের বার্তা দেওয়া হচ্ছে, সেখানেও কংগ্রেসের সঙ্গে অন্যতম শরিক জেডিএস। কলকাতায় সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্রিগেডের মঞ্চেও কুমারস্বামী ও তাঁর বাবা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী দেবেগৌড়াও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, জেডিএস বিধায়কদের এখনও ফোন করে দল ভাঙানোর চেষ্টা করছে বিজেপি৷ টোপ দেওয়া হচ্ছে টাকার৷ কুমারস্বামীর অভিযোগকে সমর্থন করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খারগে৷

তবে অভিযোগ উড়িয়ে পদ্ম শিবিরের ইয়েদুরাপ্পার দাবি, ‘জোট সরকার মিথ্যা কথা বলছে৷ বিজেপি বিরোধী হিসাবেই কাজ করছে৷’ প্রশ্ন উঠছে কাহলে কী পদ্ম শিবিরের অপরেশন কোমলের জুজুতে এখনও ভয় পাচ্ছেন কুমারস্বামী৷ শুক্রবারই বিরোধী দলের তরফে আমাদের এক বিধায়ককে দল বদলের জন্য প্রচুর টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়৷ টাকার অঙ্ক শুনলে হতবম্ব হয়ে যেতে হয় বলেও উল্লেখ করেন কুমারস্বামী। যদিও প্রলোভন এড়িয়ে গিয়েছেন সেই বিধায়ক।