বেঙ্গালুরু: বিজেপির বিপুল জয় ইতিমধ্যেই অনেক জায়গায় ভাঙন ধরাতে শুরু করেছে বিরোধী শিবিরে। বাদ নেই কর্ণাটকও। বছর খানেক আগেই সেখানে জেডিএসের সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় এসেছে কংগ্রেস। লোকসভা নির্বাচনের পর সেই রাজ্যেই ভাঙনের ইঙ্গিত।

বৃহস্পতিবার লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। আর রবিবারই বিজেপি নেতার বাড়ি ছুটতে দেখা গেল কংগ্রেসের দুই বিদ্রোহী বিধায়ককে। বিজেপি নেতা এসএম কৃষ্ণার বাড়িতে যেতে দেখা গিয়েছে তাঁদের।

এদিন সকালে এসএম কৃষ্ণার বাড়িতে যান কর্ণাটকের দুই কংগ্রেস বিধায়ক রমেশ জারকিহোলি ও সুধাকর। এই ঘটনার আগেই কর্ণাটকের কংগ্রেস বিধায়কদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা না বলেন।

যদিও কর্ণাটকের এই টানাপোড়েন নতুন নয়। এই রাক্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে রুখতে জোটবদ্ধ হয় যুযুধান দুই পক্ষ কংগ্রেস এবং জেডিএস। অনেক নাটকীয়তার পরে ওই রাজ্যে গঠিত হয় জোট সরকার।

প্রথম থেকেই জোট নিয়ে তৈরি হয়েছিল জটিলতা। সামনে এসেছিল কংগ্রেসের দলীয় কোন্দলের মতো বিষয়। কয়েক মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়ে যায় কর্ণাটকে।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন থেকেই বিজেপির পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল কর্ণাটকের কংগ্রেস-জেডিএস জোটকে। যার কারণে শপথের আগে সকল বিধায়কদের গোপন স্থানে নিয়ে গিয়েছিল প্রদেশ নেতৃত্ব। তবে শপথের পরে সরকার ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল বিজেপি নেতারা।

এর মাঝেও শোনা গিয়েছিল বেশ কয়েকজন বিধায়ক নিখোঁজ। বিজেপি নেতাদের তত্ত্বাবধানে তাঁরা ছিলেন বলেও প্রচার হয়। যদিও কংগ্রেস সেসব ধামাচাপা দেয়। বিধায়কদেরও আর বিজেপিতে যোগ দিতে দেখা যায়নি। তবে বিজেপি কর্ণাটকে ‘অপারেশন কমল’ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিল কংগ্রেস।

তবে স্বস্তিতে ছিল না কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস। বিধায়কদের উপর কড়া নজরদারি চলছিল। কিন্তু লোকসভা ভোটের ফল নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। দেশ জুড়ে মাত্র ৫২টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। তাই দলের অন্দরে যে নতুন অস্বস্তি শুরু হয়েছে, রবিবারের ঘটনায় তা স্পষ্ট।