বেঙ্গালুরু: বন্যায় ভাসছে গোটা এলাকা৷ ত্রাণ শিবিরে হাজার হাজার মানুষ৷ সেই এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন স্থানীয় বিধায়ক৷ কর্ণাটকের হুবলির কংগ্রেস বিধায়ক অবশ্য একদমই চাইছিলেন না জলে নামতে, দামি জুতো ভিজে যাবে যে! এই কারণ দেখিয়ে কোনও রকমে ফিরে আসতে চাইছিলেন তিনি৷

কিন্তু বাদ সাধলেন সাধারণ মানুষ৷ তারা চান বিধায়ক প্রসাদ আব্যায়া গোটা এলাকা ঘুরে দেখুন৷ তাদের ক্ষতির পরিমাণ চোখে পড়ুক বিধায়কের৷ কি হারিয়েছেন তারা? তা জানুন বিধায়ক৷ একরকম জোর করেই বিধায়ককে নিজেদের জলে ডুবে যাওয়া এলাকায় নিয়ে যান তাঁরা৷

এদিকে, বিধায়কের তখন তো জুতো ভিজে যাওয়ার ভয়৷ বাধ্য হয়েই নিজের দামি চামড়ার জুতো খুলে ফেলেন তিনি৷ আর তারপরেই বাঁধে বিতর্ক৷ দেখা যায় বিধায়কের সেই জুতো বইছেন তাঁর দেহরক্ষী৷

আরও পড়ুন : সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির উপায় খুঁজছে দ্বিতীয় মোদী সরকার

রিপোর্ট বলছে, স্থানীয়দের দেওয়া সাধারণ জুতো পড়ে এলাকা ঘুরে দেখতে রাজি হন কংগ্রেস বিধায়ক৷ আর তার ঠিক পিছনেই বিধায়কের জুতো হাতে দেখা গেল তার দেহরক্ষীকে৷ পরে অবশ্য সেই জুতো ঠাঁই পায় বিধায়কের গাড়িতে৷

হুবলির মান্টুর রোডের কাছে আরালিকাট্টি ওনি এলাকায় এই ছবি বেশ বিতর্ক ছড়িয়েছে৷ টানা তিন ঘণ্টার ঝোড়ো বৃষ্টিতে গোটা এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে৷ ভেঙে পড়েছে বহু বাড়ি, ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা, ফলে এলাকা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন৷ আব্যায়া নিজের দামি জুতোর জন্য প্রাথমিকভাবে এলাকা ঘুরে দেখতে রাজি হননি, কিন্তু স্থানীয়দের চাপে বাধ্য হন যেতে৷

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্যায়া৷ তিনি বলেন এই ধরণের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই৷ তিনি কাউকে নিজের জুতো বইতে বাধ্য করেননি বলে জানিয়েছেন আব্যায়া৷ তিনি জানান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন তিনি৷ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি৷

আরও পড়ুন : মানুষের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছেন মমতা: বিস্ফোরক বিজেপি নেতা

দুদিন আগেই শাহজাহানপুরে আন্তর্জাতিক যোগা দিবসের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন যোগী আদিত্যনাথের মন্ত্রিসভার সদস্য লক্ষ্মী নারায়ণ৷ সেখানেই এক সরকারি আধিকারিক তাঁকে জুতো পরিয়ে দেন৷ সেই বিশেষ মুহূর্তটি ক্যমেরাবন্দি করে রাখেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি।

অল্প সময় পরেই তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে দেখা গিয়েছে এক সরকারি আধিকারিক মন্ত্রী লক্ষ্মী নারায়ণকে জুতো পরিয়ে দিচ্ছেন। প্রথমে ডান পায়ের জুতো পরিয়ে দিলেন। সেই পায়ের কাজ সম্পন্ন হতেই বাঁ পা বাড়িয়ে দিলেন মন্ত্রী মহাশয়। সরকারি কর্তাটি মন্ত্রীর সেই পায়েও পরিয়ে দিলেন জুতো।

এই ধরনের বিতর্কিত বিষয়ের ভিডিও ভাইরাল হতে খুব বেশি সময় নেয়নি। শুরু হয়ে যায় এই বাবুয়ানা সংস্কৃতির সমালোচনা। গণতান্ত্রিক দেশে এ আবার কী? প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.