স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এরাজ্যে কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে গেলে প্রাক্তন-বর্তমান, দুজনকেই দরকার৷ বুধবার রানি রাসমণির সভা থেকে সেই বার্তাই দিল কংগ্রেস হাইকম্যান্ড৷ রাহুল গান্ধীর দূত তথা পশ্চিমবঙ্গে এআইসিসির পর্যবেক্ষক গৌরব গগৈ এদিন বলেন, “বাংলার সিংহ সোমেন মিত্র, বাংলার বাঘ অধীর চৌধুরী আজ একই মঞ্চে। সুতরাং তৃণমূল হঁশিয়ার।”

সোমেন মিত্রকে প্রদেশ সভাপতি করার পর অধীরপন্থীরা যে খুশি ছিলেন তা নয়৷ চেয়ারে বসার পর প্রথম কয়েকদিন অধীরকে পাশেই পাননি প্রদেশ সভাপতি৷ অন্যদিকে, দলীয় বৈঠকে অধীর চৌধুরীর অভিযোগ ছিল, তাঁর ঘনিষ্টরা বৈঠকে ডাক পাচ্ছেন না৷ এমনকি তাঁকেও কর্মসূচীর ব্যাপারে সঠিক তথ্য দেওয়া হচ্ছে না৷যা প্রদেশ কংগ্রেসের ফাটলকে আরও প্রকাশ্য এনে দেয়৷ এরপরে অবশ্য অভিমানী অধীর সোমেনকে জানিয়েছিলেন, ‘যখনই ডাকবেন তখনই পাবেন’৷ এতসব কিছুর পরও দুজনের দূরত্ব যেন মিটছিলই না৷ বুধবার রানি রাসমনিতে জাদুবলে সেই কাজ হাসিল করলেন গৌরব গগৈ৷ রাহুলের বিপুল জয়েই বঙ্গ কংগ্রেসের বাঘ-সিংহ একমঞ্চে পাশাপাশি বসলেন কিনা, সাংবাদিকদের তা অবশ্য স্পষ্ট বললেনি গৌরব৷

প্রদেশ সভাপতির পদ থেকে অধীর চৌধুরীকে সরিয়ে রাহুল গান্ধীরা সোমেন মিত্রকে সেই চেয়ারে বসানোয় অনেকেই ভেবেছিল, তৃণমূলের প্রতি নরম মনোভাবই রয়েছে কংগ্রেসের৷ কিন্তু এ দিনের সমাবেশে প্রত্যেকটা নেতাদের গলায় তৃণমূল সম্পর্কে যে ঝাঁঝালো বক্তৃতা শোনা গেল, তাতে স্পষ্ট, লোকসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনও রকম সমঝোতা করবে না৷

তিন রাজ্যে বিজেপির পরাজয়ের পর মঙ্গলবার দিল্লিতে দাঁড়িয়েই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “এই জয় আমাদের সবার”। বার্তা দিয়েছিলেন রাজ্যে একলা লড়লেও, সর্বভারতীয় স্তরে বিরোধীরা এক। মমতার সেই বক্তব্যকে এদিন দীপা দাশমুন্সি, অধীর চৌধুরীরা তীব্র কটাক্ষ করেন৷

দীপা দাশমুন্সি বলেন, “ভোটের ফলাফল নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একবারের জন্য রাহুল গান্ধীর নাম মুখে আনেননি৷ কারণ তিনি দুঃখ পেয়েছেন সারা দেশের মানুষ রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে নিয়েছেন বলে৷” একধাপ এগিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, “এতে স্পষ্ট দিদিভাইয়ের মন কতটা সংকীর্ণ৷ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আশা তৃণমূলনেত্রীর কোনওদিন পূরণ হবে না বলে এদিন ফের কটাক্ষ করেন তিনি৷” সর্বভারতীয় কংগ্রেসের তরফে বাংলার পর্যবেক্ষক গৌরব গগৈও মমতার উদ্দেশ্যে বলেন, “দিল্লিতে মিষ্টি, আর এখানে গালি। এই দ্বিচারিতার রাজনীতি চলবে না। দিল্লির কংগ্রেস জানে বাংলায় তৃণমূল পঞ্চায়েত নির্বাচনে কী করেছে। দিল্লির কংগ্রেস, বাংলার কংগ্রেস আলাদা নয়।একটাই।”