স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: সাংসদ লোকসভার পরিষদীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত বহরমপুরের কংগ্রেস নেতা কর্মীরা। মঙ্গলবার বিকেলে এই খুশিতে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ের সামনে আবির খেলা ও পটকা ফাটিয়ে আনন্দে সামিল হন কংগ্রেস নেতা কর্মীরা। ঘরের ছেলে লোকসভার কংগ্রেসের পরিষদীয় দলনেতা হওয়ায় খুশি বহরমপুরের বাসিন্দারাও। এদিন জেলার মানুষও অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে তার এই সাফল্যে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

পিছিয়ে পড়া জেলা হিসাবেই চিহ্নিত এক সময়ের বাংলা, বিহার, ওড়িশার রাজধানী মুর্শিদাবাদ। বহুকাল থেকেই এই জেলা কংগ্রেসের শক্তঘাটি হিসাবে পরিচিত৷ সৌজন্যে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের ৫ বারের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বহরমপুরের ‘রবিনহুড’ নামে পরিচিত অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে এবার লোকসভায় কংগ্রেসের পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে কংগ্রেস হাইকমান্ড।

লোকসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে দু’টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস৷ তার মধ্যে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হয়েছেন অধীর চৌধুরী। এই অধীর চৌধুরীই এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন এবং বলেছিলেন ক্ষমতা থাকলে তার বিরুদ্ধে লোকসভা নির্বাচনের বহরমপুর কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন এবং তাকে হাড়িয়ে দেখান। যদি অধীর চৌধুরীকে হাড়াতে পারেন তবে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। কিন্তু, সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অধীরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এক সময়ের অধীর রঞ্জন চৌধুরীর শিষ্য কান্দির প্রাক্তন বিধায়ক অপূর্ব সরকার। কিন্তু গুরুর কাছে হার মানেন অপূর্ব। লড়াকু ইমেজের কারণেই এবার কংগ্রেস তাঁর উপর ভরসা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে৷

অধীর চৌধুরী লোকসভায় পরিষদীয় দলনেতা হওয়ায় খবর আসতেই উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে পারেনি বহরমপুরের কংগ্রেস নেতারা। শহরের জেলা কংগ্রেস দফতরের সামনে অধীর চৌধুরীর ছবি হাতে নিয়ে আবির খেলায় মেতে ওঠেন কংগ্রেসীরা। এদিন জেলা কংগ্রেস মুখপাত্র জয়ন্ত দাস জানান, ‘‘আমরা গর্বিত আমাদের সাংসদ জনদরদী নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর জন্য।

অধীর চৌধুরী লোকসভায় কংগ্রেসের পরিষদীয় দলনেতা হওয়ায় খবর পেতেই আমরা আর খুশি ধরে রাখতে পারেনি৷ তাই অধীর চৌধুরী দিল্লিতে থাকলেও আমরা নেতা কর্মীরা অধীর চৌধুরীর ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা গর্বিত যে প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্র‍য়াত গনিখান চৌধুরী, প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির পর অধীর চৌধুরী এই বাংলা থেকে লোকসভার দলনেতা হলেন।’’