স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: বনধের দিন শিল্পায়ন সহ একগুচ্ছ দাবিতে কংগ্রেস ও বামেরা পদযাত্রা করল হলদিয়া শিল্পশহরে। বাইরে থেকে নেতা ও কর্মী সমর্থকদের এনে এদিন পদযাত্রা করে দুই দলই। এদিন সকালে বামেদের গণসংগঠনের যৌথ মঞ্চ বিপিএমওর ডাকে হলদিয়া শহরের টাউনশিপ মাখনবাবুর বাজার থেকে ‘অধিকার যাত্রা’ শুরু হয়। হলদিয়া থেকে কলকাতা পর্যন্ত এই পদযাত্রা হয়। অধিকার যাত্রা সূচনা অনুষ্ঠানের জন্য হলদিয়ায় কর্মী সমর্থক না পেয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এদিন কয়েকশো নেতা কর্মীকে টাউনশিপে জড়ো করে।

হলদিয়ায় অধিকার যাত্রার সূচনা করেন সিটুর রাজ্য সভাপতি সুভাষ মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিটুর পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক সুব্রত পন্ডা, শ্রমিক নেতা নির্মল জানা ও বিভিন্ন বাম গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অধিকার যাত্রা কর্মসূচিতে জেলার ২০ জন পদযাত্রী হেঁটে হলদিয়া থেকে কলকাতায় যায়। সিটুর রাজ্য নেতা এদিন মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উভয়ের সমালোচনা করেন।

সভাপতি সুভাষ মুখোপাধ্যায় জানান, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে৷ অধিকার যাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এই পদযাত্রা কর্মসূচিতে রাজ্যের ৭৮ হাজার বুথ ছুঁয়ে বিপিএমও ৫০ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতায় পৌঁছবে৷ সেখানে বড় সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এদিন বিকেলে হলদিয়ায় শিল্পায়নের দাবিতে ও কেন্দ্র সরকারের জনবিরোধী কাজের প্রতিবাদ জানিয়ে পদযাত্রা করল কংগ্রেস। দীর্ঘদিন পর শিল্পশহরের বাসিন্দারা কংগ্রেসের মিছিল দেখলেন। দুর্গাচকের সিপিটি মার্কেট থেকে এদিন কংগ্রেসের পদযাত্রা শুরু হয়। পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জেলা কংগ্রেসের সভাপতি শেখ আনোয়ার আলি, কার্যকরী সভাপতি পার্থ বটব্যাল, প্রবীণ নেতা মহাদেব সেনগুপ্ত প্রমুখ।

জেলা কংগ্রেসের ডাকে এদিনের পদযাত্রায় কংগ্রেসও বাইরে থেকে লোকজন এনে কর্মসূচি পালন করে। সিপিটি মার্কেট থেকে গিরিশ মোড় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার পদযাত্রার পর মঞ্জুশ্রী মোড়ে সভা করে কংগ্রেস। তবে বাইরে থেকে নেতা কর্মীদের এনে জড়ো করে এইভাবে বাম ও কংগ্রেসের পদযাত্রা করার সময় পথচারি থেকে এলাকাবাসীকে কটাক্ষ করতেও দেখা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে দুই দলেরই অস্তিত্ব সঙ্কট তৈরি হয়েছে অনেক দিন আগে থেকেই। কোনরকম প্রচার ছাড়াই হঠাৎ করে পদযাত্রা করে আদৌ কোন প্রভাব পড়বে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব