স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করে ঘূর্ণিঝড় আমফানকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণার দাবি জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। সেইসঙ্গে দুর্গতদের ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি টাকা দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে তারা।

আমফানের ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার রাজ্যে এসেছে কেন্দ্রীয় দল। শনিবার তাজ বেঙ্গল হোটেলে সেই টিমের সঙ্গে দেখা করে প্রদেশ কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল। ওই দলে সভাপতি সোমেন মিত্র ছাড়াও বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য, বিধায়ক সুখবিলাস বর্মা এবং কংগ্রেস নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী ছিলেন।

এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র কেন্দ্রীয় দলের কাছে এই বিপর্যয়কে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করার দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, এই দাবি মানলে সরকারের পাশাপাশি দেশ বিদেশের ইচ্ছুক ব্যক্তি অথবা সংগঠন দুর্গতদের সাহায্য করতে পারবেন।

বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান তাঁর সুন্দরবন এবং হাওড়া জেলার প্রত্যন্ত শ্যামপুর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার বিবরণ দেন। তিনি বলেন, দুর্গত মানুষদের ব্যাংক একাউন্টে অবিলম্বে টাকা পাঠাতে হবে।

প্রদীপ ভট্টাচার্য সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান থাকার অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রথমেই মানুষের মনে আস্থা ফেরাতে হবে। দুর্গতদের বাঁচাতে হবে।

সুখবিলাস বর্মা বলেন আমফানে পান চাষীরা সর্বশান্ত হয়েছে। তাঁদের বাঁচাতে সরকার অনুদান দিক। অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন একটা ত্রিপলের জন্য মহিলারা ৫- ১০ কিলোমিটার হেটে ব্লক অফিসে আসছেন , সেখানে এসেও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এই ঘটনা কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয় সরকারেরই লজ্জার।

কংগ্রেস নেতাদের সকলেই এদিন একবাক্যে কেন্দ্রীয় টিমকে বলেছেন, রাজ্যের হাতে বেশি টাকা দিতে হবে ঠিকই, তবে সঠিক মানুষের কাছে যাতে সাহায্য পৌঁছয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

উল্লেখ্য, আমফান বিধ্বস্ত দুই ২৪ পরগনা পরিদর্শনে যায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। ২টি দলে ভাগ হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা পরিদর্শন করেন তাঁরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় পাথরপ্রতিমা ও নামখানা পরিদর্শন করে একটি দল।

অন্য দলটি যায় উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ ও বসিরহাটে। সন্দেশখালির দুটি ব্লকেরই বাঁধের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ বলে জানান কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। দ্বীপগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তাঁরা।

কেন্দ্রীয় দলের প্রতিনিধিদের দেখতে পেয়ে নিজেদের দাবিদাওয়ার কথা জানান গ্রামবাসীরাও। শনিবার নবান্নে তাদের হাতে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট তুলে দেবেন রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। আনফানের তাণ্ডবে রাজ্যে ৮০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে মুখ্যসচিব জানিয়েছেন।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প