বেঙ্গালুরু: সংবিধান বা দলীয় অনুশাসন কিছুই মান্য করে চলেন না রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন ইউপিএ জমানার মন্ত্রী এসএম কৃষ্ণ।

দক্ষিণের রাজ্য কর্ণাটকের বাসিন্দা এসএম কৃষ্ণ দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলেন। গান্ধী পরিবারের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ছিল মধুর। বিধানসভার স্পিকার থেকে শুরু করে রাজ্যপালের পদ গুরুত্বপূর্ন পদের অধিকারী হয়েছেন কংগ্রেসের দৌলতেই।

২০০৯ সালে কেন্দ্রে ইউপিএ সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মনমোহন সিং। সেই প্রথম ইউপিএ সরকারের মন্ত্রীসভার বিদেশমন্ত্রি ছিলেন এসএম কৃষ্ণ। যদিও মেয়াদ শেষের গেই তিনি ইস্তফা দিয়ে দেন। এরপরে ২০১৭ সালে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ত্যাগ করেন। কংগ্রেসের এই দীর্ঘদিনের সঙ্গীর বিজেপি যোগের কথাও শোনা গিয়েছিল।

শনিবার কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সম্পর্কে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন এসএম কৃষ্ণ। রাহুলের কারণেই তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি সাড়ে তিন বছর বিদেশমন্ত্রী ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সঙ্গে কোনও সমস্যা ছিল না। রাহুল গান্ধী তখন দলের সাধারণ সম্পাদকও ছিল না। কিন্তু প্রবীণ নেতাদের উপরেও কতৃত্ব ফলাতে চাইতেন। বিষয়টা জানতে পেরেই আমি ইস্তফা দিয়ে দিয়েছিলাম।”

মন্ত্রীদের এড়িয়েও রাহুল গান্ধী অনেক কিছু করতেন বলে দাবি করেছেন এসএম কৃষ্ণ। ক্যাবিনেটে পাস হয়ে যাওয়া অর্ডিন্যান্স ছিঁড়ে ফেলেছিলেন রাহুল গান্ধী। যা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছিল। এসএম কৃষ্ণের অভিযোগ, “এই বিষয়টাকে ওরা(গান্ধী পরিবার) অতিরিক্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা বলে মনে করে।” তিনি আরও বলেছেন, “রাহুল গান্ধী কারো কাছে উত্তর দিতেন না। সংসদ বা সরকার কাউকেই পাত্তা দিতেন না।”

আরও পড়ুন- মমতাই আদর্শ প্রধানমন্ত্রী, বললেন যোগীর মন্ত্রী

এই বিষয়ে কর্ণাটকের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দীনেশ গুণ্ডু রাও বলেছেন, “এসএম কৃষ্ণের প্রতি আমার যে এক শতাংশ সম্মান অবশিষ্ট ছিল তা আজ ফুরিয়ে গেল। এসব কথা বলে উনি কী পাচ্ছেন উনিই জানেন।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “এতে কংগ্রেসের কোনও ক্ষতি হবে না। নিজের সম্মান উনি নিজেই নষ্ট করছেন।” কংগ্রেস বলেই এখনও এসএম কৃষ্ণকে নিয়ে ভাবছে, বিজেপি তাঁকে নিয়ে কোনও কথা কখনও বলবে না বলে দাবি করেছেন কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দীনেশ গুণ্ডু রাও।

দীনেশ গুণ্ডু রাও