স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এইরকম আল্টিমেটম…! মনে হচ্ছে ফাঁসির সময় দিয়ে দিচ্ছেন৷ আসন সমঝোতার ব্যাপারে কংগ্রেসকে ২৪ ঘন্টা সময় দেওয়ার পরই বামফ্রন্টকে এই ভাষাতেই কটাক্ষ করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য৷ তিনি বলেন, ‘‘বিমানবাবু বললেই তো হল না৷ আমরা যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ে নিয়েছি৷ ওঁরা অনেক দেরি করে ফেলেছেন৷’’

আরও পড়ুন: তৃণমূল সাম্রাজ্য ধ্বংস করতে বজরংবলীর দ্বারস্থ অর্জুন

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সিপিএমের সঙ্গে জোট ভেস্তে দেওয়ার পর মঙ্গলবার অবশিষ্ট আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতার রাস্তা ফের খোলা রেখেই দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করা হয়৷ কংগ্রেসের জেতা চারটি আসন তাদের ছেড়ে দেয় বামেরা।

এরপরই একদা সাপে-নেউলে তথা গত নির্বাচনের জোটবন্ধু দুই রাজনৈতিক দল সিপিএম-কংগ্রেস ফের আলাদা পথে৷ আর এসব নিয়েই প্রবীন কংগ্রেস বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানকে কটাক্ষ করেছেন৷

আরও পড়ুন: ‘মোদী বাবু, অমিত বাবু- আমার সঙ্গে মন্ত্রের প্রতিযোগিতা করে দেখান’

এদিন বিমান বসু বললেন, “কংগ্রেসের জেতা চার আসনে আমরা এখনও আমরা প্রার্থী দিচ্ছি না। কিন্তু ভবিষ্যতে যে দেব না তাও নয়৷” তিনি জানান, আসন রফা নিয়ে আরও একবার ভাবনাচিন্তা করার জন্য বুধবার বিকেল পর্যন্ত কংগ্রেসকে তাঁরা সময় দিচ্ছেন৷

বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের এই মন্তব্য শুনে ভীষণ রেগে গিয়েছেন প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্র৷ সমালোচনার সুরে তিনি বলেন, “আমরা কোন আসনে প্রার্থী দেব সেটা কি ওঁরা ঠিক করে দেবে? দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপদেশ এবং আমি আমার সহকর্মীদের মতামত নিয়েই ঠিক করেছি আমরা ৪২ আসনেই একলা লড়ব৷ আমরা বামেদের করুণা চাই না৷ রাহুল গান্ধী বলেই দিয়েছেন, যদি বাংলায় কংগ্রেস একটা আসনও না পায় কোনও অসুবিধে নেই৷ কিন্তু দলের মর্যাদা কোনওভাবেই যাতে ক্ষুন্ন না হয়৷”

আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা নিয়ে BSF-এর আইজিকে সতর্ক করল কমিশনের

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে জোট করেই লড়াই করতে চাইছিল বাম-কংগ্রেস। কিন্তু রায়গঞ্জ-মুর্শিদাবাদ আসনের নিয়ে প্রথম থেকেই তৈরি হয়েছিল জটিলতা। মাঝে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর নির্দেশে দুটি আসনের দাবি ছাড়ে কংগ্রেস৷ তারফলে একপ্রকার চূড়ান্ত হয় বাম-কংগ্রেস জোট৷ কিন্তু তাতে বাধ সাধে বামেদের আগেভাগে ঘোষনা করে দেওয়া ২৫টি আসনের প্রার্থী তালিকা৷

প্রদেশ কংগ্রেস প্রশ্ন তোলে, দু-দলের মধ্যে আসন সমঝোতার আলোচনা চলাকালীন কীভাবে বামেরা আগেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেয়৷ শেষপর্যন্ত দু দলের মধ্যে আসন জট না কাটায় কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেয় একলা লড়ার৷ সোমবার রাজ্যের এগারোটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণাও করে দেয় তারা৷ যার মধ্যে অনেক আসনেই বামেরা প্রার্থী দিয়েছে৷ এরপরই মঙ্গলবার বামেদের তরফ থেকে ফের আসন সমঝোতার বার্তা দেওয়া হয় কংগ্রেসকে৷

আরও পড়ুন: ‘এই তৃণমূল আর না’, গানটি সিপিএমকেও বাজাতে বললেন সাংসদ বাবুল

তবে প্রদেশ কংগ্রেস বামেদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর বিমানবাবুরা কংগ্রেসকে যে চারটি আসন ছেড়ে রেখেছিল সেই চারটি আসনে তারা প্রার্থী দেবে বলেই আলিমুদ্দীন স্ট্রিট সূত্রে খবর৷ বামেদের বক্তব্য শোনার পর কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেত্রী দীপা দাশমুন্সিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সিপিএমের সঙ্গে সমস্ত আলোচনা এখন অতীত৷ তাঁরা যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা পুরোপুরি সঠিক৷